সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাইযোদ্ধারা, ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবিধানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি এবং অংশগ্রহণকারীদের (জুলাইযোদ্ধা) আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও বাধ্যতামূলক গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতেই নতুন সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে তোলা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংবিধানের তফসিলে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পাশাপাশি জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও বৈঠকে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮ অনুচ্ছেদের মূলনীতি, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে বাধ্যতামূলক গণভোটের আয়োজন করতে হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিলের বিষয়টি হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো ১৯৯৬ বা ২০০৬ সালের মতো হুবহু হবে না জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর প্রধান কে হবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে বিচারক, সাবেক বিচারপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি এসেছে বলে জানান তিনি। তদন্ত, প্রসিকিউশন ও চার্জ গঠনের মতো বিচারসহায়ক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এনএনবাংলা/
