সাম্প্রতিক
দেশে প্রথমবার লটারিতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত কয়েকশ ডেঙ্গুতে ১০ মৃত্যু, হামের উপসর্গে আরও ৬ প্রাণহানি কাশ্মীর থেকে ১৫০ ‘অবৈধ বাংলাদেশিকে’ ফেরত পাঠানোর খবরে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, পিএসকেও মারধর চট্টগ্রাম বন্দরে অনুমতি ছাড়া ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা শুধু মোকাবিলা নয়, বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব: রাহুল গান্ধী ৩০ ব্যাংকের বন্ধ কার্ড ও ডিজিটাল সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কেন? সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাইযোদ্ধারা, ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Skip to content

সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বাড়ছে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও অন্যান্য খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের আয় ও মজুরি সূচকে দেখা দিয়েছে নিম্নমুখী প্রবণতা। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশের সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির বিপরীতে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সাধারণ মজুরি সূচকও কমেছে। এ মাসে সার্বিক মজুরি সূচক ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা—তিন খাতেই মজুরি সূচকে কমতির প্রবণতা দেখা গেছে।

সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। এর ফলে মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, ডাল, লবণ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে কিছুটা কমেছে মূল্যস্ফীতি। সেপ্টেম্বরে এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। যদিও মাসের ব্যবধানে সামান্য কমেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ হার এখনো বেশি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

অঞ্চলভেদেও মূল্যস্ফীতির চিত্রে পার্থক্য রয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা বেশি। সেপ্টেম্বরে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিপরীতে শহরে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মজুরি সূচকের ক্ষেত্রেও অর্থনীতির প্রধান তিন খাতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি সূচক কমে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। শিল্প খাতে আগস্টের ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে মজুরি সূচক হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

একইভাবে সেবা খাতেও মজুরি সূচক কমেছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতে মজুরি সূচক দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ফলে সেপ্টেম্বরে একদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে মজুরি সূচক। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের এই ব্যবধান বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এনএনবাংলা/