সাম্প্রতিক
দেশে প্রথমবার লটারিতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত কয়েকশ ডেঙ্গুতে ১০ মৃত্যু, হামের উপসর্গে আরও ৬ প্রাণহানি কাশ্মীর থেকে ১৫০ ‘অবৈধ বাংলাদেশিকে’ ফেরত পাঠানোর খবরে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, পিএসকেও মারধর চট্টগ্রাম বন্দরে অনুমতি ছাড়া ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা শুধু মোকাবিলা নয়, বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব: রাহুল গান্ধী ৩০ ব্যাংকের বন্ধ কার্ড ও ডিজিটাল সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কেন? সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাইযোদ্ধারা, ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Skip to content

ঢাকার রাস্তায় ‘মায়া রাইড’, নারী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন নারী চালকরাই

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন হাজারো নারীকে নানা প্রয়োজনে ছুটতে হয়। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ব্যবসায়িক কাজে গন্তব্য ভিন্ন হলেও যাত্রাপথের অস্বস্তি অনেকের কাছেই একই। বাসের ঠাসাঠাসি ভিড়, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও হয়রানির আশঙ্কার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিংয়ের বাইকে অপরিচিত পুরুষের পেছনে বসতেও অনেক নারী স্বস্তি বোধ করেন না। এমন বাস্তবতা থেকেই নারীদের জন্য নারী চালকের রাইড শেয়ারিং সেবা চালুর উদ্যোগ নেন এক দম্পতি।

ফাহাদ চৌধুরী ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উদ্যোগে শুরু হয় ‘মায়া রাইড’। মাত্র পাঁচজন নারী চালক নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্ম পাঁচ মাসের মধ্যেই পেয়েছে প্রায় ৯৯ জন নারী চালক। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাইড বুক করে নারী যাত্রীরা নারী চালকের সঙ্গে নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারছেন।

তবে এই উদ্যোগের পথচলা সহজ ছিল না। নারী চালকের সংকট, মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং সামাজিক কটূক্তিসহ নানা বাধা মোকাবিলা করতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। শুরুতে অনেক নারীও চালক হিসেবে যুক্ত হতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে উৎসাহিত করে কাজে যুক্ত করেন জান্নাতুল ফেরদৌস।

মায়া রাইডের চেয়ারম্যান ফাহাদ চৌধুরী জানান, ডেটা মার্কেটিংয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার পর উদ্যোগটি তার কাছে শুরুতে এক ধরনের পরীক্ষা ছিল। পরে সেটিই ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ সেবায় রূপ নেয়। বর্তমানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাইড বুকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নিজেদের বাইক বা গাড়ি থাকা নারীরাও চালক হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন। চালকদের কাছ থেকে আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হচ্ছে।

নারী যাত্রীদের কাছ থেকেও মিলছে ইতিবাচক সাড়া। নারী চালকের সঙ্গে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও পাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে নারী চালকেরা বলছেন, এই কাজের মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজেদের আয় হচ্ছে, অন্যদিকে অন্য নারীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

মায়া রাইডের কার্যক্রম এখন শুধু কর্মজীবী নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্কুলগামী শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘মায়া কিডস’। প্রি-বুকিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের বাসা থেকে স্কুল এবং স্কুল থেকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে পরিবারের একজন সদস্যও শিশুর সঙ্গে যেতে পারেন।

মায়া রাইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, নারীদের প্রতিদিনের যাতায়াতের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেই তারা এই উদ্যোগ শুরু করেন। নিরাপদ যাত্রার পাশাপাশি নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাঁচজন নারী চালক দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে প্রায় ৯৯ জন চালক এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সামনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, মায়া রাইডকে আরও গোছানো ও নিয়মতান্ত্রিক করতে নতুন একটি অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। এতে যাত্রী ও চালকের আলাদা তথ্য, রাইডের বিস্তারিত বিবরণসহ আরও নানা সুবিধা থাকবে।

নারীর নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে মায়া রাইড। পাঁচজন নারী চালক দিয়ে শুরু হওয়া ছোট উদ্যোগটি এখন ধীরে ধীরে নারীর জন্য নারীর তৈরি একটি বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে।

এনএনবাংলা/