কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির

ভারতে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির দাবি, ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে রাস্তায় বিক্ষোভ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ অভিযোগ করেন। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং কংগ্রেসের কর্মীরা দিল্লিতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়েছেন।
ভান্ডারির অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় কংগ্রেসের কর্মীদের পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দেওয়া এবং লাথি মারার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তার মতে, এসব ঘটনা ভারতে অস্থিরতা তৈরির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে। এ ছাড়া, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কী প্রমাণ দিয়েছেন, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই রাস্তায় বিক্ষোভ করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়। ভান্ডারির অভিযোগ, রাহুল গান্ধী বিক্ষোভের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।

ছবি: রয়টার্স
এই রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম, যা ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেস অভিযোগ করে, দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন এবং বিজেপির পাল্টা অভিযোগে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এনএনবাংলা/
