সাম্প্রতিক
বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড, ১৫ বছরের চুক্তি সই গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরে, মার্চে দৃশ্যমান হবে পদ্মা ব্যারাজ: পানিসম্পদ মন্ত্রী দিল্লিতে ৩ বছর পর আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি, সরবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও সৌদি-হুথি সংঘাত তীব্র হচ্ছে, যুদ্ধে জড়াচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান-সিরিয়া বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন আবরার হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর রূপপুরে প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি
Skip to content

শুক্রবারের বাজার-সদাই

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন 

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। শাকসবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে তেল, চিনি ও ডিম—প্রায় সব পণ্য কিনতেই গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। শীতকালীন সবজির সরবরাহ শুরু হলেও দাম কমেনি। এর মধ্যে একই পণ্যের দামে এক বাজারের সঙ্গে অন্য বাজারের পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না সাধারণ মানুষের।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালী, নাখালপাড়া, ইন্দিরা রোড, মালিবাগ, রামপুরা, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে পণ্যের দাম তুলনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ইন্দিরা রোড বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। অথচ রাজধানীর কয়েকটি বাজারে একই বেগুন মিলছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ বাজারভেদে কেজিপ্রতি দামের পার্থক্য ২০ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে নাখালপাড়ায় প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। অন্যান্য কয়েকটি বাজারে একই সবজির দাম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। সে হিসাবে নাখালপাড়ায় শিমের দাম তুলনামূলক কম।

শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পটল ও কাঁকরোলের কেজি ৬০ টাকা, ঝিঙা ও বরবটি ৮০ টাকা করে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং চারটি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

মাছের বাজারেও চড়া দামের চাপ রয়েছে। প্রতি কেজি মাঝারি আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। বড় বোয়াল মাছের কেজি ৭০০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ৩২০ টাকা এবং কই মাছ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও কেজিপ্রতি দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কক মুরগি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি জাতের মুরগি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে। এদিকে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেল ও প্যাকেটজাত চিনির দাম নিয়েও ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ সংকটের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা হলেও কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। একইভাবে এক কেজি প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

সবজির বাড়তি দামের কারণ হিসেবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও সরবরাহ কম থাকার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। ইন্দিরা রোডের সবজি বিক্রেতা কফিল বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে, এজন্য পরিবহন খরচও বেশি হইয়া গেছে। আবার শীতের সবজিও কেবল উঠতে শুরু করছে। এজন্য দাম বাড়তি।’

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারভেদে দামের পার্থক্য এবং তেল-চিনির মতো পণ্যের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তাদের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এনএনবাংলা/