সাম্প্রতিক
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরার ‘অদৃশ্য চোখ’, কোন অপরাধে কত জরিমানা হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’
Skip to content

হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’

জনপ্রিয় রকস্টার মাহফুজ আনাম জেমস। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ সফরে থাকা দেশের জনপ্রিয় রকস্টার মাহফুজ আনাম জেমসকে ঘিরে ইতালির রাজধানী রোমের কনসার্টে তৈরি হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। হোটেল কক্ষ নোংরা ও অগোছালো করে রেখে যাওয়ার অভিযোগে ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করা হয়েছে—আয়োজকদের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এমনকি জেমস ও তার সফরসঙ্গীরা হোটেল থেকে ‘পালিয়ে’ গেছেন বলেও অভিযোগ করেন আয়োজকদের কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগকে বড় করে দেখার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন জেমস। রোমের পর ভেনিসে কনসার্ট করতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অভিযোগের পেছনে তথ্য-প্রমাণ না থাকলে এসব বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।

হোটেল রুমটি জেমসের জন্য বরাদ্দ ছিল না

রোমের হোটেলে কক্ষ নোংরা করে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেমস জানান, তাদের দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিথিশিল্পী হিসেবে আসা এক তরুণ গিটারিস্ট ও কিবোর্ডশিল্পীর জন্য ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি বরাদ্দ ছিল। ওই কক্ষকে ঘিরেই মূল অভিযোগের সূত্রপাত।

জেমস বলেন, অতিথিশিল্পী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজন তরুণ মিউজিশিয়ান তাদের সঙ্গে এসেছিলেন। তার জন্য নির্দিষ্ট হোটেল কক্ষ বরাদ্দ ছিল। বয়সে তরুণ হওয়ায় হয়তো তিনি রুম পুরোপুরি গুছিয়ে বা পরিষ্কার করে রাখেননি।

বিষয়টিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে জেমস বলেন, কেউ প্রতিদিন নিজের রুম পরিষ্কার করতে না চাইলে বা রুম কিছুটা নোংরা হয়ে গেলে হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী সেটি পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া রয়েছে। অনেক মিউজিশিয়ানই রুম কিছুটা এলোমেলো রাখেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০০ ইউরো জরিমানা নিয়েও জেমসের বক্তব্য

হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করেছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জেমস বলেন, সত্যিই যদি এমন জরিমানা করা হয়ে থাকে, সেটিও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তার ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে হোটেলের নিয়ম ভাঙলে কিংবা রুমে ধূমপান করলে ১০০, ২০০ বা ৫০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হয়। তাই এ ঘটনাকে বড় কোনো ইস্যু হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।

‘তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জেমস। তিনি বলেন, তারা ভেনিসে চলে আসার পর এসব বক্তব্য সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কেউ নিজের মতো করে অনেক কিছু লিখতে পারেন। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সেসব বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।

জেমসের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই হোটেল থেকে চেকআউট করেছেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে কক্ষের চাবিও বুঝিয়ে দিয়েছেন। নিয়ম না মেনে কিংবা রিসেপশনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে হোটেল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

জেমস আরও বলেন, ইতালিতে কোনো অতিথি নিয়ম না মেনে হোটেল থেকে চলে গেলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারত। তাদের পাসপোর্টও হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

কনসার্টের পারিশ্রমিক নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হোটেল বিতর্কের পাশাপাশি রোমের কনসার্টের পারিশ্রমিক নিয়েও তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য।

সংবাদ সম্মেলনে জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অভিযোগ করেন, চুক্তি অনুযায়ী জেমসের মঞ্চে ওঠার আগে ৩০ হাজার ইউরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করার কথা থাকলেও আয়োজকরা পুরো অর্থ দেননি।

রবিনের দাবি, মঞ্চে ওঠার আগে তিনি আয়োজকদের কাছে বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছিলেন। এ সময় তাকে ‘হয়রানির মুখে পড়তে হয়’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কনসার্টের ভেন্যুতে তখন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। জেমসের মঞ্চে উঠতে দেরি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তাকে মঞ্চে উঠতে হয় বলে জানান রবিন।

তবে আয়োজকদের বক্তব্য ভিন্ন। কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবিজেনের প্রধান হোসাইন আহমেদ মোয়াজের দাবি, ৩০ হাজার ইউরোর চুক্তির বিপরীতে জেমসের দলকে ২৪ হাজার ইউরো পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি ৬ হাজার ইউরো টিকিট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে দেওয়ার কথা ছিল।

মোয়াজের অভিযোগ, রাত ৯টায় জেমসের মঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও তার আগেই তার ম্যানেজার ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে বাকি অর্থ দাবি করেন। পরে অর্থ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে জেমসের মঞ্চে উঠতে দেরি হয়। দর্শকদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাত প্রায় ১০টার দিকে জেমস মঞ্চে ওঠেন বলে দাবি করেন আয়োজক।

এনএনবাংলা/