সাম্প্রতিক
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার মিরপুরে হামলা-অগ্নিসংযোগের কাজ ‘ফ্যাসিজমের দোসরদের’: ডিএনসিসি প্রশাসক আপস মীমাংসায় প্রথম স্ত্রীর জামিন, গাজী নজরুলের জামিনেও বাদীর আপত্তি নেই কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: এমপি মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না এলপিজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা, ডিসিদের নির্দেশ গরম বাড়তেই আবারও বেড়েছে লোডশেডিং
Skip to content

২৫ বছর আগে ১ অক্টোবরের নির্বাচনে যেভাবে বড় জয় পেয়েছিল বিএনপি

২০০১ সালে নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর স্বাক্ষর করছেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি: বিবিসি

২০০১ সালের ১ অক্টোবর। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে বড় জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ওই নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে এককভাবে ১৯৩টিতে জয়ী হয় দলটি। বিপরীতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পায় ৬২টি আসন।

নির্বাচনের ফলাফলের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনের ২৫ বছর পূর্তিতে ফিরে দেখা যাক সেই নির্বাচনের ফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হলে সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নেন।

বিএনপির ১৯৩ আসনের জয়

নির্বাচনে বিএনপি তিনটি দলের সঙ্গে জোট গঠন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ভোটের ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি আসনে জয় পায়। জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ১৭টি এবং জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জয় পায় ৬২টি আসনে। বাকি আসনগুলোতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। আইপিইউর তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ।

পাঁচ বছরে বিএনপির আসন বেড়ে ৭৭টি

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয় আগের সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটি ১১৬টি আসন পেয়েছিল। পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৩টিতে—অর্থাৎ বেড়েছিল ৭৭টি আসন।

এর ফলে একক দল হিসেবে সংসদে বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয় এবং চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়।

১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ খালেদা জিয়ার

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১০ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই দিনে চারদলীয় জোটের সদস্যদের নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভাও শপথ নেয়।

পরে ৩০ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ওই অধিবেশনে জামিরউদ্দিন সরকার স্পিকার নির্বাচিত হন।

নির্বাচন নিয়ে ছিল নানা আলোচনা

২০০১ সালের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও অভিযোগও ছিল। তবে আইপিইউর নির্বাচনী পর্যালোচনায় দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভোটগ্রহণকে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

সব মিলিয়ে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির নির্বাচনী ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ১ অক্টোবরের ওই নির্বাচনে ১৯৩টি আসনে জয় পেয়ে দলটি শুধু সরকার গঠনই করেনি, সংসদে একক দল হিসেবেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল।

এনএনবাংলা/