রবিউল আউয়াল মাসের তাৎপর্য

আরবি চন্দ্র বছরের ১২ মাসের মধ্যে রবিউল আউয়াল হলো তৃতীয় মাস। অধিকাংশ আলেমের মতে রমজানের পরই রবিউল আউয়ালের মর্যাদা। রমজান মাসের মর্যাদা অধিক হওয়ার কারণ এ মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে। আর রবিউল আউয়াল মাসের মর্যাদা অধিক হওয়ার কারণ, এ মাসে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা মুসলিমদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার পথ দেখায়।
দ্বিতীয় কারণ হলো-এ মাসেই খাদিজাতুল কুবরা (রা.)কে বিয়ে করেন আল্লাহর রাসূল (সা.)। তৃতীয় কারণ হলো-এ মাসেই মুসলমানদের জন্য প্রথম মসজিদ তৈরি করা হয় কুবা নামক স্থানে এবং এটিই ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ। চতুর্থ কারণ হলো-এ মাসে আল্লাহর রাসূল (সা.) প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন এবং যেদিন তিনি মদিনায়ে পৌঁছান তা ছিল সোমবার ১২ রবিউল আউয়াল। পঞ্চম কারণ হলো-এ মাসেই বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর আরোপিত রিসালাতের দায়িত্ব পালন শেষে দ্বীন-ইসলাম পূর্ণতার মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভুর আহ্বানে সাড়া দেন।
বাংলাদেশে এ মাসে সপ্তাহ, পক্ষ ও মাসব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রিয় নবি (সা.)-এর জন্ম উৎসব হিসাবে ১২ রবিউল আউয়াল বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে সবার জন্য থাকে সাধারণ ছুটি।
বর্তমানে একশ্রেণীর মানুষ এই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রথা, রীতি-নীতি ও শরীয়ত পরিপন্থী কর্ম-কাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বীনের নামে বিদআতে লিপ্ত হচ্ছে। ইসলাম এসব কতটুকু সমর্থন করে সেদিকে তাদের বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ রবিউল আওয়াল মাসকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে আচার অনুষ্ঠান মেতে ওঠেন অনেকে ইসলামী শরীয়তে এসবের কোনো প্রমাণ নেই। এ সম্পর্কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘আমাদের শরীয়তে নেই এমন বিষয় যারা আবিস্কার করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।’-(বুখারী: ২৬৯৭)
কুরআন হাদিসে এ মাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আমল বা ইবাদত পাওয়া যায় না। তবে কিছু আমল আছে অন্যান্য মাসের মতো এ মাসেও করা যায়। যেমন, প্রতি সোমবারে রোজা রাখা। সোমবারে রোজা রাখার ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-হজরত আবু কাতাদা (রা.) বলেন, সোমবারের রোজা সম্পর্কে নবি করিম (সা.)কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনেই আমি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার ওপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস, ১১৬২)। এছাড়া রবিউল আউয়ালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ জানা, শেখা এবং অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” [সূরা আল-হাশর: ৭]
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।” [সূরা আল-আহযাব: ৫৬]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন।” [সহিহ মুসলিম, ৪০৮]
অতএব রবিউল আউয়ালসহ সারা বছরই বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিত।
এই মাসে বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন, চরিত্র, দাওয়াত, ধৈর্য, ইবাদত, পরিবার পরিচালনা, সাহাবাদের সঙ্গে আচরণ এবং উম্মতের প্রতি তাঁর মমতা সম্পর্কে পড়াশোনা করা যেতে পারে। আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” [সূরা আল-আহযাব: ২১]
আল্লাহতায়ালা মাহে রবিউল আউয়াল মাসের বরকত, রাসূলে আকরাম (সা.)-এর মহব্বত ও পরকালীন নাজাত আমাদের সবাইকে নসিব করুন! আল্লাহুম্মা আমিন।
এনএনবাংলা/এফএস

