সাম্প্রতিক
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন ইসলামী ন্যাটোর সামরিক শক্তি কতটা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদির হাতে কী কী অস্ত্র বিয়ের গুঞ্জনে ক্ষুব্ধ পূজা চেরি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’, মিয়ানমারের বক্তব্যে বাংলাদেশের উদ্বেগ এআই ক্যামেরা চালুর পরই অ্যাকশন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩ ঘণ্টায় ৩৭৯ মামলা শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে স্বতন্ত্র পে-স্কেল ভাবছে সরকার রাজধানীতে চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় ‘পিংক বাস’ ৩ মিনিটের যে ব্যায়াম ৯০ মিনিটের ওয়ার্কআউটের চেয়ে বেশি উপকারী অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার ইউনিভার্সিটির গবেষণা

৩ মিনিটের যে ব্যায়াম ৯০ মিনিটের ওয়ার্কআউটের চেয়ে বেশি উপকারী

ছবি: লাইফ ক্লিক

মাত্র কয়েক মিনিটের তীব্র ব্যায়াম শরীরে এমন শক্তিশালী জৈবিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা দীর্ঘ সময়ের মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামেও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের দাবি, মাত্র তিন মিনিটের তীব্র গতির দৌড় বা স্প্রিন্ট রক্তপ্রবাহে এমন ব্যাপক আণবিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা ৯০ মিনিটের মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের তুলনায় অনেক বেশি।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউজউইকে প্রকাশিত গবেষণাটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামের পর শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়ার তুলনা করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একদলকে ৩০ সেকেন্ড করে মোট ছয়টি ‘অল-আউট’ স্প্রিন্ট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ শক্তিতে দৌড়াতে বলা হয়। অন্যদলকে ৯০ মিনিট ধরে মাঝারি গতিতে সাইক্লিং বা ট্রেডমিলে দৌড়াতে দেওয়া হয়।

গবেষণার প্রধান ও রকফেলার ইউনিভার্সিটির অ্যালবার্ট রেসনিক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. পল কোহেন বলেন, রক্তে থাকা বিপুল পরিমাণ প্রোটিন, মেটাবোলাইট ও লিপিড পরিমাপ করে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামের আলাদা প্রভাব বোঝাই ছিল গবেষণার লক্ষ্য। ফলাফলে দেখা গেছে, ব্যায়ামের ধরন অনুযায়ী শরীরে স্পষ্ট ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র তিন মিনিটের দ্রুতগতির দৌড় শেষ করার পরপরই অংশগ্রহণকারীদের রক্তে পরিমাপ করা প্রায় ২৫ শতাংশ প্রোটিনের মাত্রায় পরিবর্তন আসে। বিপরীতে, টানা ৯০ মিনিট সাইক্লিংয়ের পর রক্তের প্রোটিনে পরিবর্তনের হার ছিল শতাংশের চার ভাগের এক ভাগেরও কম। ট্রেডমিলে মাঝারি গতির দৌড় সাইক্লিংয়ের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রভাব ফেললেও, তা তিন মিনিটের স্প্রিন্টের কাছাকাছি ছিল না।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বল্প সময়ের স্প্রিন্টের পর রক্তে ২০০টিরও বেশি মেটাবোলাইটে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। একই সঙ্গে রক্তনালীর বৃদ্ধি, টিস্যু পুনর্গঠন ও হরমোন সিগন্যালিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রোটিনের মাত্রাও দ্রুত বেড়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা জানান, এসব প্রোটিন ‘এক্টোডোমেইন শেডিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে। অর্থাৎ শরীর নতুন করে প্রোটিন তৈরি করার পরিবর্তে কোষের উপরিভাগে আগে থেকেই থাকা প্রোটিনের অংশ দ্রুত রক্তসংবহনে ছড়িয়ে দেয়।

শুধু রক্তপ্রবাহেই নয়, এর প্রভাব দেখা যায় শরীরের চর্বি কোষেও। স্প্রিন্ট দেওয়া ব্যক্তিদের রক্তের সংস্পর্শে আসা চর্বি কোষে জিনের কার্যকলাপেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এসব পরিবর্তন কোষের জ্বালানি পোড়ানোর প্রক্রিয়া, হরমোনের প্রতি সাড়া এবং পুষ্টি গ্রহণের ক্ষমতাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

এক বিবৃতিতে ড. পল কোহেন বলেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র কয়েক মিনিটের দ্রুতগতির শরীরচর্চাও শরীরে এত শক্তিশালী আণবিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। টানা আট সপ্তাহ অনুশীলনের পরও শরীরে এই প্রভাব বজায় থাকতে দেখা গেছে। তার মতে, এটি কেবল সাময়িক শারীরিক চাপের প্রতিক্রিয়া নয়; বরং কঠোর ব্যায়ামের নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে, মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গবেষকরা দেখেছেন, সাইক্লিং শেষ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রক্তে ফ্যাটি অ্যাসিড ও লিভার থেকে নিঃসৃত কিছু প্রোটিনের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে চর্বি কোষের জিনের কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গবেষক দলটি ইউকে বায়োব্যাংকে থাকা ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করেও দেখেছে, তিন মিনিটের স্প্রিন্টের ফলে পরিবর্তিত কিছু প্রোটিনের সঙ্গে হৃদরোগ ও মেটাবলিক ব্যাধির ঝুঁকি কমার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এসব জটিল রোগের ঝুঁকি কমার সঙ্গে যুক্ত ৩৩টি প্রোটিনের মধ্যে ৩২টিতেই স্প্রিন্ট বা তীব্র দৌড়ের মাধ্যমে পরিবর্তন দেখা গেছে। বিপরীতে, মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামে পরিবর্তিত হয়েছে মাত্র তিনটি প্রোটিন। এছাড়া, এসব প্রোটিনের এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে ড. কোহেন মনে করেন, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকার চেয়ে যেকোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রমই ভালো। তাই সুস্থ থাকার জন্য শুধু এক ধরনের ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কার্যক্রমের সমন্বয় করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

এনএনবাংলা/