সাম্প্রতিক
Skip to content

বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ‘দুঃখিত ও বিব্রত’ চুপ্পু

সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ফাইল ছবি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২১ আগস্ট (শুক্রবার) শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনে আয়োজিত সেই শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পাশে ছিলেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। অতিথির সারিতে সামনের দিকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বাম পাশে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ডান পাশে বসেছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠানে ছিলেন না সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতি কেন শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না—এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

বঙ্গভবনের জনবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বঙ্গভবন কেবল আয়োজকের ভূমিকা পালন করে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জন্য আসন রাখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাই এ ধরনের কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না— এমন প্রশ্ন করা হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কাছেও। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আমন্ত্রণ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত ও বিব্রত। আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

এদিকে নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। শরীর এখন কেমন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শরীর আগের চেয়ে অনেক খারাপ যাচ্ছে। পা ফুলে গেছে।’ স্বাভাবিক হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে।

নতুন রোগ শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এ অবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এনএনবাংলা/