গুদামের দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা নিয়ে গেল ২০২ বস্তা সার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে কৃষকেরা জোট বেধে একটি ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩ বস্তা পটাশ সার রয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় ৫০ জন কৃষক ৫৮ বস্তা ফেরত দিয়ে যায়। বাকিগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে পর্যায়ক্রমে শান্তিপূর্ণভাবে কৃষকরা এসব সার গুদামে ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমষি করতে থাকেন। তার মোট বরাদ্দ ছিলো ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিলো ৩৪০ বস্তা সার।
রোববার সকাল থেকে তার ডিলার পয়েন্টে ২ শতাধিক কৃষক সারের জন্য একত্রিত হয়ে সার নিতে চাচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যেতে থাকেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকী সারগুলো রক্ষা করে।
ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১হাজার ৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লুট করে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করে। এরমধ্যে ২০২ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে যান। পরে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি অফিসের যৌথ উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে ৫৮ বস্তা সার ফেরত পাওয়া যায়। বাকি সারগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ।
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত কুমার দেবনাথ জানান, জেলা থেকে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং সার্কেল পুলিশ কর্মকর্তাসহ আমরা কৃষকদের লুট করে নিয়ে যাওয়া সারগুলো ফেরত নিচ্ছি। আশা করছি কৃষকরা শান্তিপূর্ণভাবে সেগুলো ফেরত দেবেন।
এনএনবাংলা/

