সাম্প্রতিক
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরার ‘অদৃশ্য চোখ’, কোন অপরাধে কত জরিমানা হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’ আর্জেন্টিনার পারেদেস ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ, আরও যারা শাস্তি পেলেন
Skip to content

খুলনার পাইকগাছায় দেশের প্রথম ওডিআর সেন্টার উদ্বোধন

দেশে প্রায় ৪০ লাখ মামলা বিচারাধীন। সীমিতসংখ্যক বিচারক দিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে এত বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন। এ পরিস্থিতিতে মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআরের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) খুলনার পাইকগাছা চৌকি আদালতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে দেশের প্রথম অনলাইন ডিসপিউট রেজল্যুশন (ওডিআর) সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ তথ্যমতে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। জেলা আদালতে বিচারকের সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন বিভিন্ন ডেপুটেশন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সরাসরি বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকের সংখ্যা আরও কম। এত অল্পসংখ্যক বিচারকের মাধ্যমে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রায় অসম্ভব।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের আগে ও পরে মেডিয়েশন, এডিআর বা আপসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি, অর্থঋণ আদালত, পারিবারিক আদালত, শ্রম আদালত ও আইনগত সহায়তা প্রদান আইনসহ বিভিন্ন আইনে এডিআরের বিধান রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে।

চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী বলেন, আদালতের মাধ্যমে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি হলে সাধারণত এক পক্ষ জয়ী এবং অন্য পক্ষ পরাজিত হয়। কিন্তু মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষ কিছুটা ছাড় দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। এতে বিরোধ স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রতিবেশী, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কও অক্ষুণ্ন রাখার সুযোগ থাকে।

তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা হলে নিম্ন আদালতের পর আপিল, হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ ও রিভিশনসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ছোটখাটো ও আপসযোগ্য বিরোধ মামলা দায়েরের আগে বা পরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা গেলে মামলাজট কমার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তিও কমবে।

পাইকগাছার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওডিআরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খুলনা শহর থেকে পাইকগাছায় সড়কপথে আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। কয়রাসহ আরও দুর্গম এলাকার মানুষের জেলা শহরে এসে আইনি সেবা নেওয়া আরও কষ্টসাধ্য। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে এসব এলাকার মানুষের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পাইকগাছার পাশাপাশি কয়রাসহ খুলনার অন্যান্য দুর্গম এলাকাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিজ এলাকা থেকেই আইনি সহায়তা ও বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে ওডিআর গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। অনলাইন ডিসপিউট রেজল্যুশনের অন্যতম সুবিধা হলো এটি ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা কমাতে পারে।

তবে ওডিআর বিচারব্যবস্থার বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনগত সহায়তা ও মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনগণকেন্দ্রিক করার একটি সহায়ক মাধ্যম এটি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর ও ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপের প্রধান আয়েশা তাসিন খান বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পাইকগাছার মতো প্রান্তিক অঞ্চলের অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা থেকে বঞ্চিত হন। প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব বাধা কমিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচারের সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই ফ্রেন্ডশিপের ওডিআর সেন্টারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, পাইলট ভিত্তিতে চালু হওয়া এ সেন্টারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনপদের মানুষ নিজ এলাকা থেকেই আইনি পরামর্শ ও উপযুক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আইনগত সহায়তা কর্মকর্তা ম. রোমানা আফরোজ। ফ্রেন্ডশিপের ওডিআর সেন্টারের কার্যক্রম তুলে ধরেন সংস্থাটির ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক-আইন অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান।

এ সময় পাইকগাছা চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ, সিভিল জজ হযরত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টারের মাধ্যমে উপযুক্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভার্চুয়াল মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।

এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে শুধু বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জেলা শহরে বারবার যাতায়াত করতে হবে না। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব, জলবায়ু কার্যক্রম, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটি কাজ করে থাকে। দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে ফ্রেন্ডশিপ প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী বিভিন্ন উদ্যোগও পরিচালনা করে।

সংস্থাটির ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং সরকারি সেবা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সংযোগ সহজ করা। নতুন ওডিআর সেন্টারটিও সেই ধারাবাহিকতায় প্রত্যন্ত মানুষের আইনগত সহায়তা ও বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করার একটি উদ্যোগ।

এনএনবাংলা/