সাম্প্রতিক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন আজিজ খানসহ সামিটের ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে এনবিআরের মামলা মন্ত্রিসভায় ড. মঈন-পার্থসহ নতুন চার মুখ, রাতে শপথ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ, ভয়াবহ সেই দিনে প্রাণ হারান ২৪ জন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হচ্ছেন ড. আবদুল মঈন খান
Skip to content

শুক্রবারের বাজার-সদাই

ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার

ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। সরবরাহ ভালো থাকার পরও কমেনি অধিকাংশ সবজির দাম। তবে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্ষোভ ও অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও কমেনি ক্রেতাদের ভোগান্তি।

মাছ-মাংসের চড়া দামের সঙ্গে সবজির বাড়তি খরচও চাপ তৈরি করছে সীমিত আয়ের মানুষের সংসারে। বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বিভিন্ন সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের কিছু সবজির দাম আরও বেশি।

বর্ষার মৌসুম হলেও রাজধানীর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপি। তবে এসব সবজির দামও বেশ চড়া। ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং শিম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে।

এদিকে কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। কয়েক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে এটি।

ডিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে।

পেঁয়াজের দাম বর্তমানে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আলুর দামও বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ-মাংসের চড়া দামের মধ্যে সবজির বাজারও বাড়তি থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের খাবারের তালিকা ঠিক করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে অল্প টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা গেলেও এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এতে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এ কারণেই সবজির দাম বাড়তি। শীতের মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে দামও কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

শুধু সবজি, ডিম ও মুরগি নয়, বেড়েছে আটা-ময়দা ও চিনির দামও। বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও একই আটা ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

খোলা ময়দা এখন প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে।

এদিকে আবদুল্লাহপুর মাছের আড়তে বড় রুই প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং কাতল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম রয়েছে কেজিপ্রতি ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।

খেটে খাওয়া মানুষ কোনোভাবে চাল ও আটা কিনতে পারলেও মাছ, মাংস ও কাঁচা শাকসবজি কেনা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও বাড়তি খরচ সামলে কোনোভাবে সংসার চালানোর চেষ্টা করছে।

এনএনবাংলা/