ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা

সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের শূন্য আসন পূরণে অনুষ্ঠিত বিশেষ রানঅফ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
শতভাগ ব্যালট গণনা শেষে দেখা গেছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব পেয়েছেন মোট ভোটের ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।
আয়েশা ওয়াহাব এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ও প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারও তিনি একটি প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালান, যেখানে ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
অন্যদিকে, মেলিসা হার্নান্দেজ ইসরাইলপন্থি অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালান। নির্বাচনী প্রচারে তিনি মার্কিন ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি) থেকে বিপুল আর্থিক সহায়তা পান।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই থেকে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় মোট প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারই গেছে হার্নান্দেজের প্রচারণায়। শুধু এআইপিএসি থেকেই তার নির্বাচনী তহবিলে এসেছে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার।
জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে আয়েশা ওয়াহাব বলেন, বাইরে থেকে লাখ লাখ ডলারের অর্থপ্রবাহ, ভুয়া তথ্য ও মিথ্যা বিবরণী ছড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ সত্যকে চিনতে পেরেছেন এবং তাকে ভোট দিয়েছেন। এ জন্য তিনি নিজের এলাকার মানুষের প্রতি অত্যন্ত গর্বিত বলেও জানান।
তবে পরাজয়ের পরও আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের আশা ছাড়ছেন না মেলিসা হার্নান্দেজ। তিনি বলেন, ১৪তম ডিস্ট্রিক্টের পুনর্নির্ধারিত মানচিত্র অনুযায়ী নতুন করে প্রায় ২৬ হাজার ভোটার যুক্ত হচ্ছেন। আগে যে ডাবলিন সিটির মেয়র ছিলেন, সেখানকার ভোটারদের সমর্থন আবারও পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এর মাধ্যমে ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন হার্নান্দেজ।
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মধ্যবর্তী মেয়াদে আগামী ৩ নভেম্বর আবারও আয়েশা ওয়াহাব ও মেলিসা হার্নান্দেজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বিশেষ নির্বাচনের এই ফলের পর আগামী নির্বাচনে দুই প্রার্থীর লড়াই আরও আলোচনায় আসতে পারে।
এনএনবাংলা/

