সাম্প্রতিক
দ্বিতীয় দিনেই ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকায় বাড়ছে লোডশেডিং, দিনে-রাতে একাধিকবার যাচ্ছে বিদ্যুৎ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দামের বাইরে নতুন চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে গুদামের দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা নিয়ে গেল ২০২ বস্তা সার ইয়াবা সেবন দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন: পুলিশ ২০২৪-কে চূড়ান্ত লড়াই ভাববেন না, এটি ছিল মহড়া: জামায়াত আমির এল নিনোর প্রভাব, ২০২৭ সালে পড়তে পারে রেকর্ডভাঙা গরম সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-রুপার সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক হুমকির খবরে ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
Skip to content

বঙ্গোপসাগরে জাহাজডুবিতে সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন নিখোঁজ

ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওশান উইনার ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (মানিক)। জাহাজডুবির পর পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন মামুন। এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২২ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শহরের গণমুখী মাঠসংলগ্ন এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার মামুনের সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ অনলাইনে কথা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীও তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শুক্রবার লৌহ আকরিক নিয়ে জাহাজটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে পরিবার জাহাজডুবির খবর জানতে পারে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘গত বুধবার ভাইয়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। কিন্তু এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাইনি।’

তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে দ্রুত আমাদের ভাইয়ের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানানো হোক।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলের শেষদিকে মামুন এমভি ওশান উইনারে যোগ দেন। প্রায় চার মাস ধরে তিনি জাহাজটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

মামুনের বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এমভি ওশান উইনার ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ২২ আগস্ট বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পায়। এরপর ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে একটি লাইফ র্যাফট থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

জাহাজটি কী কারণে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে আকাশ ও সমুদ্রপথে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমার ভাইকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। সরকারের কাছে দ্রুত সঠিক তথ্য ও কার্যকর উদ্ধার তৎপরতার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে টানা তিন দিন ধরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাতক্ষীরার ওই পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্বজনরা এখন অপেক্ষা করছেন একটি সুখবরের—মামুন জীবিত আছেন, এমন একটি নিশ্চিত খবরের।

এনএনবাংলা