সাম্প্রতিক
দেশে ফিরে নেপালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস রাজধানীতে প্রধান সড়কে অটোরিকশা নিষিদ্ধ হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ করে ১১ এমপির রিট এই বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি আজও সন্ধ্যা থেকে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব ১২ বছর পর সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন ক্লু, মিলল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন’ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড আক্রান্ত, মৃত্যু ৩ নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু থার্ড টার্মিনাল চালু করতে আরও ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন: বিমানমন্ত্রী
Skip to content

মেঘনায় ১৭৭ কোটি টাকার সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ আছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বাঙালপাড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের চাতলপাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন উধাও হয়ে গিয়েছে।

২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে তৎকালীন ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন নাসিরনগর এলাকার সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল দ্রুত কাজ শেষ করার।

শুরুর দিকে দ্রুতগতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে আসে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই কাজের গতি কমতে- কমতে এক পর্যায়ে পুরোপুরি থমকে যায় নির্মাণকাজ। মেঘনা নদীর বুকে সেতুটির কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার নির্মাণ করে আর কাজের কিছু নির্মাণসামগ্রী এবং যন্ত্রপাতি ফেলে রেখে গিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। স্থানীয়রা জানান, পরে তমা কনস্ট্রাকশনের নিয়োজিত লোকজন তাদের কিছু যন্ত্রপাতি ও মালামাল নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে এলাকা ত্যাগ করে।

কিশোরগঞ্জের শতভাগ হাওর অধ্যুষিত উপজেলা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম। একসময় এসব উপজেলার মানুষ এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলাসহ জেলা শহরে যাতায়াত করতো পায়ে হেঁটে এবং নৌকায়। ২০২০ সালে তিন উপজেলা সংযুক্ত করে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়কপথ। শুকানো মৌসুমে ভেসে ওঠা ডুবন্ত সড়ক দিয়ে হাওরবাসী যাতায়াত করলেও বর্ষায় ভরসা শুধু নৌকা। এই দুর্দশা লাঘবে জেলার হাওর সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা মেঘনা নদীর উপর শুরু হয়েছিল এই সেতু নির্মাণ কাজ। কাজ শেষ হলে হাওরাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ সহজ হবে সারাদেশে। এতে খুশি অবহেলিত হাওরাঞ্চলের মানুষ।

হাওর অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এই সেতুর কাজ শেষ হলে তারা দীর্ঘদিনের নৌপথনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থার বদলে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ করতে পারবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে নাসিরনগর হয়ে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার কথা। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

সেতুটি নির্মিত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।।

এলজিইডির অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, ১৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত ৩৫ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করেছে। তমা কনস্ট্রাকশন চুক্তিভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে।

এনএনবাংলা/এফএস