সাম্প্রতিক
Skip to content

গ্রাম-শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহে কাটছাঁট

গ্রামে লোডশেডিং কমাতেই ঢাকা হল ‘অন্ধকার’

ছবি: সংগৃহীত

গ্রামে অতিরিক্ত লোডশেডিং নিয়ে ভোগান্তি ও জনঅসন্তোষ বাড়ায় রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে লোডশেডিং ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায়ও লোডশেডিং বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকা জোনে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এলাকাভেদে দিন-রাতে ২ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে চলতি গরমের মধ্যেই। গত ১০ আগস্ট দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

এর আগে ও পরে নিয়মিত ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এর বড় অংশের চাপ পড়েছে গ্রামের গ্রাহকদের ওপর। কোনো কোনো এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, এমনকি ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে গ্রাহকদের। এ নিয়ে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নীতির সমালোচনা করেছে ভোক্তা সংগঠনগুলোও।

গ্রামে ক্ষোভ, পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে কোথাও কোথাও গ্রাহকরা পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীদের ওপরও চড়াও হন। পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে একযোগে পুলিশের কাছে আবেদন করে ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।

এর পরই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত হয়, শুধু গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং না রেখে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর মধ্যেও তা ভাগ করে দেওয়া হবে।

ছবি: সংগৃহীত

১৫ দিন ধরে ঢাকায় ২ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং

সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর গত ১৫ দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক ২ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে রাজধানীর বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন পর আবার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন।

পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে লোডশেডিং শুধু গ্রামাঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব বিতরণ সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকার সময় কিছুটা কমেছে এবং গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেছে।

চাহিদা সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত

বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা সাড়ে ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। এর বিপরীতে এখনো ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

বুধবার ঢাকা জোনে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলের ওপর এককভাবে লোডশেডিংয়ের চাপ না দিয়ে রাজধানীসহ অন্যান্য বিতরণ এলাকাতেও তা ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এই ব্যবস্থাপনার ফলে গ্রামে লোডশেডিং কিছুটা কমলেও রাজধানীতে আবারও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি বেড়েছে।

এনএনবাংলা/