সাম্প্রতিক
প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে? ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি, শ্বাসরোধেই সবাইকে হত্যা কৃষকের সার ভোগান্তি, সরকার অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম নেপাল-তিব্বতের বন্যায় ৩৫ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, নিহত বেড়ে ৩৩৫ ‘টুকু আসে, টুকু যায়’, ‘এই আসে, এই যায়’—লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানা ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা-মাদক-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশে কমেছে খুন-ধর্ষণ-মব সহিংসতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল সেপ্টেম্বরে, ভোট নভেম্বরে: সিইসি বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ১৭ ব্যাংক দেবে ৪১ হাজার কোটি টাকা ‘খণ্ডিত সংস্কার’ মানবে না বিরোধী দল, ‘ক্ষোভ উগরে’ সংসদে ওয়াকআউট
Skip to content

ফুটপাত দখল করে অবৈধ ব্যবসা নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক

নাগরিকদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা এবং স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট )সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

অভিযানকালে সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অভিযানকালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ দোকান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। একইভাবে সড়ক দখল করে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অভিযান কাউকে হয়রানি করা বা শুধুমাত্র জরিমানা করার জন্য নয়। নগরের শৃঙ্খলা, জনস্বার্থ এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যারা আইন ও সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরসহ প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রশাসক বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। “ছয় মাস ধরে আমরা তাদের সতর্ক করে আসছি। গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বারবার জানানো হয়েছে—সড়ক দখল করে হকারি করা যাবে না এবং অবৈধভাবে ফুটপাত ব্যবহার করা যাবে না। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না,” বলেন তিনি।

হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, তালিকা অনুযায়ী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হকারি করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, “হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ থাকবে, কিন্তু রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যাও ধারাবাহিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

প্রশাসক আরও জানান, আগামী কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল, ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা এবং বিদ্যুতের অপব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

অভিযানকালে প্রশাসক বিভিন্ন ফুটপাত, স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয় এবং ফুটপাত দখল করে স্থাপিত অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এনএনবাংলা/