‘টুকু আসে, টুকু যায়’, ‘এই আসে, এই যায়’—লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানা

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুষ্টু লোকে বলেন, ভালো লোকে বলেন না— টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যখন তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলছে এবং গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, তখন নির্বাচনে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া সরকারের ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। একই সময়ে ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করেন, এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি হবে? যারা বর্তমানে চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে—তা আল্লাহই জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয় ব্যঙ্গ করেন, নয়তো বাকচাতুর্যের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বর্তমানে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফা বেড়েছে ডিমের দাম, পাশাপাশি বেড়েছে চালের দামও। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়টিও সংসদে উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা।
এনএনবাংলা/

