৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা-মাদক-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। দায়িত্বপ্রাপ্তদের কেউ একটি, আবার কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও মাদক দমন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
কোন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ কোন জেলার দায়িত্বে
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব। আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে মৌলভীবাজারের দায়িত্ব।
মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব পেয়েছেন।
জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের দায়িত্ব। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দেওয়া হয়েছে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের দায়িত্ব। আব্দুল বারী পেয়েছেন বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন পেয়েছেন ঢাকা জেলার দায়িত্ব।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব। মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনার দায়িত্ব। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ শামীম কায়সার পেয়েছেন জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব। মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা-মাদক নিয়ন্ত্রণে দিতে হবে পরামর্শ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও তারা তদারকি করবেন।
প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
এনএনবাংলা/

