সাম্প্রতিক
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা, কতটা কার্যকর হবে? রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ, তদন্তে আরও ৪ জন হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ডেঙ্গুতে একজনের প্রাণহানি তিন ফিফটিতে বাংলাদেশের ৩১৭, প্রথম দিনেই নাটকীয় উত্থান-পতন শেখ হাসিনার আমলে দুই বিচার নিয়ে কী বলেছিলেন নাভি পিল্লাই? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির মোটরসাইকেলে এসে বিকাশকর্মীদের গাড়িতে গুলি, দুই বস্তায় থাকা তিন কোটি টাকা লুট নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে ছয় কোটি ২০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত
Skip to content

বাংলাদেশের পাশে ইইউ সহ ১৫ দেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দশম বছরেও সহায়তার প্রতিশ্রুতি

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফাইল ছবি

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১৫টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার নবম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রায় নয় বছর পরও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তবে রাখাইনে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হওয়ায় সেখানে মানবিক সংকটও বাড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ত্রাণ ও বাণিজ্যে অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশগুলো বলেছে, প্রায় এক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাস্তুচ্যুতি ও নানা সংকটের মধ্যেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ সম্মান ও সহমর্মিতা দেখিয়ে আসছে।

চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য উপযোগী নয়। প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কৌশলগত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সফল প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে দেশগুলো। এতে তারা মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনে সক্ষম হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহায়তার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশি এবং শরণার্থী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে দেশগুলো।

রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে কেন্দ্রে রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংকট দশম বছরে প্রবেশ করলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভুলে গেলে চলবে না। তাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাবে দেশগুলো।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসোভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

এনএনবাংলা/