বিটিভিতে নিজেদের ছবি কম দেখানোর অনুরোধ তথ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর

বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিজেদের ছবি কম দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া, বিটিভিতে বিরোধী দলের খবর প্রচারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদফতর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় তার ও প্রতিমন্ত্রীর প্রথম অনুরোধ ছিল তাদের ছবি যেন যতটা সম্ভব কম দেখানো হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার কারণে এটিও পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। রীতিটাই এমনভাবে হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ, আমরা একটা প্রসেসের মধ্যে আছি। আমার বিশ্বাস, আপনারা সঙ্গে থাকলে, দেশের মানুষ সঙ্গে থাকলে আমরা ঠিকমতো এগিয়ে যেতে পারব।
এসময় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সরকারি টেলিভিশনে বিরোধী দলের খবর প্রচারের বিষয়েও নতুন নির্দেশনার কথা জানান।
তিনি বলেন, বিটিভি, সংসদ টিভিসহ সরকারি টেলিভিশনগুলোতে শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের খবর প্রচার করা হবে না। আনুপাতিক হারে সংসদের বিরোধী দলের সদস্য এবং সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচার করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তত উনাদের কথা, যেগুলো বলছেন সরকারের বিরুদ্ধে হোক, পক্ষে হোক, জনগণের পক্ষে যে কথাগুলো, সেগুলো তুলে ধরতে হবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।
সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে মঙ্গলবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভারতে অবস্থান করা পালাতক শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু একজনকে নয়, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চায়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনসহ এর আগের ঘটনাগুলোরও সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন। ভারতের আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ বাংলাদেশের জন্য খুব একটা শুভকর নয় বলেই তার ধারণা।
তিনি বলেন, সরকারের মূল দাবি একই, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যাদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন, তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব গণমাধ্যম ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে, প্রমোট করে, কিংবা চর্চা করে তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না।’
গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’ (ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাসিজম)-এর কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল চিন্তা-চেতনায় যদি কেউ ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোট করে, সেই জিনিসটাকে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমাদের অন্য কিছু করার থাকে না। যারা মুক্ত বাংলাদেশ এবং নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।’
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এনএনবাংলা/এফএস

