সাম্প্রতিক
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আহত ১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা কারাগারে খলনায়ক ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চাইলো সিআইডি বাংলাদেশের সঙ্গে সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার: ভারতের হাইকমিশনার দ. কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমতি দিল সরকার ৯৫ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন: সিপিডি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বললেন, ‘কার এত জ্বালা’ কলকাতায় ৪৮ ঘণ্টায় বন্ধ হয়ে গেল ২২১ হোটেল, বিপাকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক রাজধানীতে ৫ হাজার ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার
Skip to content

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বললেন, ‘কার এত জ্বালা’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি হুমায়ুন কবির। বরং এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ‘কার এত জ্বালা?’

সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…’

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি বাংলাদেশি হিসেবেই মন্ত্রী হয়েছেন এবং তার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে বলে তিনি মনে করেন না।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশি মিনিস্টার হিসাবে আছি। আমি মনে করি না আমার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে। মানে এখানে আসিয়া বাংলাদেশের জন্য কাজ করা, মানে তো কোনো সুবিধাভোগী লোক করবে না।’

এর আগে শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এতদিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা হুমায়ুন কবির। এরপর ছোটবেলা থেকে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এই বিএনপি নেতার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা এবং তিনি সেটি ত্যাগ করেছেন কি না, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধকের কার্যালয় ‘কোম্পানিজ হাউজ রেজিস্ট্রার’-এর সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। সেখানে তার আবাসস্থলও যুক্তরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘হ্যামলেটস কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সিআইসি’ নামে একটি কোম্পানির পরিচালকও ছিলেন হুমায়ুন কবির। কোম্পানিটি ‘কোম্পানিজ হাউজ রেজিস্ট্রারে’ নিবন্ধিত। যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট ‘গভডটইউকে’-তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হন এবং এক মাস ছয় দিন পর, ২৪ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধার মুখে পড়েন।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সদস্য নিয়োগ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে তিনি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ-সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না। তবে পরে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তার কথিত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

গত রোববার দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান হুমায়ুন কবির। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন ও উচ্চশিক্ষা নেন। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি এবং একপর্যায়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেন।

প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তার বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাজ্যের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও দেশটির রাজনীতি বা এমপি হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বাধা নেই।

এদিকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশিত খবর এবং এ নিয়ে ইন্টারনেটে ‘শোরগোলের’ প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির হাসতে হাসতে বলেন, “আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন।”

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…’

পরে এক সাংবাদিক প্রথম আলোতে খবর প্রকাশের কথা উল্লেখ করলে পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমানকে ইঙ্গিত করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জ্বালা উঠছে তার আবার নাকি?’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পক্ষে জোরাল অবস্থান নেওয়া মানুষ সকল, দেশপ্রেমিক যারা আছে, দেশের পক্ষে যারা অবস্থান নেই, যারা মিডিয়া আছে, যারা দেশবাসী আছে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আছে, তারা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

এনএনবাংলা/