সাম্প্রতিক
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরার ‘অদৃশ্য চোখ’, কোন অপরাধে কত জরিমানা হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’ আর্জেন্টিনার পারেদেস ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ, আরও যারা শাস্তি পেলেন
Skip to content

কলকাতায় নিহত ৫ জনের মরদেহ দেশে আসছে আজ , স্বজনদের অপেক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ আজ দেশে আনা হচ্ছে। দুদেশের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর নাগাদ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

মরদেহ সংগ্রহের জন্য বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় অশ্রুসিক্ত নয়নে অপেক্ষা করছেন নিহতদের স্বজনেরা।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৫), তাঁদের তিন বছরের শিশু স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া অন্যজন হলেন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৭)।

নিহত আহম্মেদ বাবুর মরদেহ সংগ্রহের জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই বেনাপোল সীমান্তে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বজনরা। বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন জানান, তাঁর ভাই গত সোমবার ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে বাবুর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

নিহত দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।

কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যদের মরদেহ আনতে দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান কলকাতায় রয়েছেন। এছাড়া কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্জয় ঘোষ ও ভগ্নিপতির ভাই কাঞ্চন নন্দীও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। তাদের মরদেহ নিতে কুষ্টিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক ও স্বজনেরা বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। তার স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ দাফন করা হবে।

দীর্ঘ নয় বছর আগে আফসানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন দেবাশীষ। ধর্মীয় ভিন্নতায় তাদের সংসার জীবনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই দম্পতির এখন বেঁচে থাকলো ১০ বছর বয়সী কন্যা সন্তান।

এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ফেরদৌস হোসেন বলেন, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তবে মরদেহবাহী গাড়ি বেনাপোলে ঠিক কখন পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানান ওসি।

​এদিকে ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ আজ (২২ আগস্ট) দুপুর সা‌ড়ে ১২টার দি‌কে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছেছে।

ভোমরা ইমিগ্রেশন পু‌লি‌শের ও‌সি সজিব বালা জানান, ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে মরদেহটি দেশে পৌঁছা‌নোর পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হ‌য়ে‌ছে।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, “চিকিৎসা শেষে শনিবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তার বদলে মরদেহ হয়ে ফিরলেন তিনি। আছ‌রের নামাজের পর দাফনের প্রস্তু‌তি নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। বাড়িতে কবর খনন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

অন্যদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেতু‌লিয়া গ্রা‌মের রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন হয়েছে। তার দুই সন্তান ভারতে থাকায় শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়। এ সময় রেবতীর স্বামীও সেখানে উপ‌স্থিত ছিলেন।

রেবতীর দেবর তপন সরকার শনিবার বিষয়‌টি নিশ্চিত ক‌রে‌ছেন।