সাম্প্রতিক
Skip to content

ডপলার রিসার্চের জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩% মানুষ

ছবি : পিএমও ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস বা ১৮০ দিন পার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছে। এই ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ।

‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক এই জরিপ পরিচালনা করেছে ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহায়তায় পরিচালিত জরিপটির ফলাফল বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়।

জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো সমর্থনের চিত্র পাওয়া গেলেও সরকারের সামগ্রিক কাজ এবং দেশ কোন পথে এগোচ্ছে—এই দুই প্রশ্নে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে মানুষ আশাবাদী হলেও একই সময়ে তাদের একটি বড় অংশ মনে করছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। উত্তরদাতাদের কাছে খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। জরিপের মাঠপর্যায়ের কাজ চলতি আগস্ট মাসেই পরিচালিত হয়।

সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্যানেলের ওপর পরিচালিত জরিপে মোট ১০ হাজার ৪১৩টি কল করা হয়।

ডপলার রিসার্চের প্রতিবেদনে সরকারের ১৮০ দিনের কাজ নিয়ে জনমতকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাজে সন্তুষ্ট হলেও দেশ কোন পথে চলছে—এ বিষয়ে তারা বিভক্ত। একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব উন্নতি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও মানুষ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার সরকারের চেয়ে বেশি

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন। বিপরীতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, তিনি ভালো করছেন না। আর ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মতামত দেননি অথবা উত্তর দিতে চাননি।

বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়—বিভিন্ন শ্রেণির উত্তরদাতাদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার প্রায় একই ছিল। এসব শ্রেণিতে সন্তুষ্টির হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে। দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতেই এই হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ বা তার বেশি।

সরকারের কাজের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার বেশি। এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতার চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সরকারের কাজকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। জরিপে দেখা গেছে, প্রতিটি দলীয় সমর্থকগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্টির হার সরকারের কাজের মূল্যায়নের চেয়ে বেশি। আবার সরকারের কাজের মূল্যায়ন দেশের সামগ্রিক গতিপথের মূল্যায়নের চেয়ে বেশি।

দেশ সঠিক পথে চলছে, মনে করেন ৪৮.৬%

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশ সঠিক পথে চলছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। আর ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি। জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে এই প্রশ্নেই উত্তর না দেওয়ার হার সবচেয়ে বেশি।

দলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে এ প্রশ্নে মতপার্থক্যও সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, দেশ সঠিক পথে রয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ, যা সবচেয়ে কম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ

দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী—এমন প্রশ্নে কোনো তালিকা না দিয়ে উত্তর দিতে বলা হলে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

এরপর বড় সমস্যা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উল্লেখ করেছেন ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানকে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।

জরিপে দেখা গেছে, যে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোতেই সরকারের কাজের মূল্যায়ন সবচেয়ে খারাপ। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা খারাপ হচ্ছে। জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এমনটি বলেছেন ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ। আর নিত্যপণ্যের দামের বিষয়ে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ সরকারের কাজকে নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

কঠিন এক বছর পেরিয়ে সামনে ভালো সময়ের প্রত্যাশা

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়েছে। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, তাদের পরিবারের অবস্থা ভালো হয়েছে।

তবে আগামী ১২ মাস নিয়ে আশাবাদী মানুষের সংখ্যাও কম নয়। ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ মনে করেন, সামনের এক বছরে তাদের অবস্থা ভালো হবে। ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এক বছর আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী। ৩৯ শতাংশ কম আশাবাদী এবং ৬ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন, পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ফ্যামিলি কার্ড, করনীতি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সমর্থন

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি ব্যাপক সমর্থনের চিত্র পাওয়া গেছে। জরিপে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ফ্যামিলি কার্ডকে সমর্থন করেছেন।

এ ছাড়া করনীতিকে সমর্থন করেছেন ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ৭০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।

বিরোধী নেতাদেরও রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা

জরিপে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নিয়েও মানুষের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কাজকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কাজকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা অনুভূতিতে পার্থক্য

নিজ এলাকায় সন্ধ্যার পর একা হাঁটার ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা কিছুটা কম নিরাপদ বোধ করেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা হাঁটতে নিরাপদ বোধ করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রকাশ্যে ধর্ম পালন নিয়ে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা নিরাপদ বোধ করার কথা জানিয়েছেন। তবে মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে এই হার ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ হলেও হিন্দু উত্তরদাতাদের মধ্যে তা ৮২ শতাংশ।

এনএনবাংলা/