রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে ভোট দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনের ভোটার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর শুরু হবে ব্যালট গণনা।
এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অলি আহমদ।
এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সংসদ সদস্যদের বুঝিয়ে দেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নিয়ম তুলে ধরেন। এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
বৈঠকে সিইসি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থী এবং তাঁদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ঘোষণা করেন। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি, ব্যালট পেপার গ্রহণ এবং তা ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়ার নিয়ম বিস্তারিত জানান তিনি।
যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা
সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকেই নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা।
ভোটের শুরুতে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করতে হবে। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন ভোটার। সবশেষে ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
সিইসি জানিয়েছেন, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এরপরই ব্যালট গণনার কাজ শুরু করা হবে।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয় সূত্র।
বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনিও এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এনএনবাংলা/

