সাম্প্রতিক
Skip to content

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র

বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। ফাইল ছবি

কয়লা সংকট পেরিয়ে ফের উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট, ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের কারণে জাতীয় গ্রিড যখন বাড়তি চাপের মুখে, তখন কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

অতীতে কয়লা সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য বলছে, গত ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ১০০ শতাংশ অ্যাভেইলেবিলিটি বজায় রেখে প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এ সময়ে কেন্দ্রটির গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট।

এর আগে জুন ২০২৬ মাসে রামপাল কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। মাসটিতে গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট।

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) খান নোমান শিবলী বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান অনুযায়ী রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী বলেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটই বর্তমানে চালু রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। গ্রিডে যতটুকু চাহিদা রয়েছে, সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এপ্রিল মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডের চাহিদা পূরণ করে আসছে রামপাল। বর্তমানে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত কয়লার মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ধারাবাহিক উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের জন্য ইতিবাচক বিষয়। পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কারিগরি সক্ষমতা ধরে রাখা গেলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এনএনবাংলা/