সাম্প্রতিক
আসিফকে ঢাকা-১০ আসন দিতে জামায়াত আমিরকে ফোন দিয়েছিলেন ড. ইউনূস: রাশেদ শাহজালালে উড়োজাহাজের আসনের নিচে মিললো ২০ কোটি টাকার স্বর্ণের বার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হরমুজ প্রণালীর নাম ‘ট্রাম্প প্রণালী’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম জামালপুরে বাস শ্রমিকদের কর্মবিরতি, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ ঘোষণা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ব্যবস্থাপক দিশার মৃত্যুতে নতুন মোড় আজ সিরিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল
Skip to content

নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তিতে ‘ভ্যাট’ অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিলাম ক্রেতাদের কাছ থেকে ওই ভ্যাট আদায়ের নির্দেশেরও কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্বে জারি করা রুল ও সম্পূরক রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন।

২৪ কোটি টাকায় নিলামে সম্পত্তি কেনা

মামলার নথি অনুযায়ী, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ জারি মামলা দায়েরের পর অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকি সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়।

নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কিনে নেন। তাদের দর অনুমোদনের পর তারা সম্পূর্ণ নিলামমূল্য জমা দেন।

এরপর অর্থঋণ আদালত ওই অর্থ ও পাউন্ডেজ ফি গ্রহণ করে নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ভ্যাটের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

নিলাম ক্রেতা ও ডিক্রিধারী ব্যাংক—উভয় পক্ষই অর্থঋণ আদালতের ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেন। পরবর্তী সময়ে আগের কয়েকটি রায়ের আলোকে অর্থঋণ আদালত ডিক্রিধারী ব্যাংককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান থেকে অব্যাহতি দিলেও নিলাম ক্রেতাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখার পর তারা হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

গত ৮ এপ্রিল বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর স্ট্যাম্প শুল্কসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।

নিলাম সম্পত্তিতে ভ্যাট নিয়ে হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

পরবর্তীতে রুল ও সম্পূরক রুলের শুনানি বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।

নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ রুল ও সম্পূরক রুল উভয়ই চূড়ান্ত ঘোষণা করে রায় দেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, নিলাম ক্রেতা হিসেবে আবেদনকারীদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূতভাবে জারি করা হয়েছে। ফলে ওই আদেশের কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই।

এসআরওর সংশ্লিষ্ট অংশও অবৈধ

আদালত আরও ঘোষণা করেন, বিতর্কিত এসআরওর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ অভিব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেই অংশও আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং এর কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই।

আইনজীবীর মতে, এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছেন, সংসদ কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন দ্বারা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিলে কেবল অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ওই সম্পত্তির ওপর নতুন করদায় সৃষ্টি করা যায় না।

আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এ রায় দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং নিলামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

এনএনবাংলা/