ট্রাম্পের মুখ ১ ডলারে, শত বছরের রেকর্ড ভেঙে মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতিসংবলিত বিশেষ ১ ডলারের মুদ্রা বাজারে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তৈরি করা এই মুদ্রার বিক্রি শুরু হয়েছে বুধবার থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, সোনালি রঙের মুদ্রাটির এক পাশে রয়েছে ট্রাম্পের মুখচ্ছবি এবং অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিল। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অব ফাইন আর্টস মুদ্রাটির নকশা অনুমোদন করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই।
এর আগে মুদ্রায় নিজের প্রতিকৃতি ব্যবহারের উদ্যোগকে ‘বেশ ব্যতিক্রমী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় সম্মানিত বোধ করছেন বলেও জানিয়েছিলেন।
মুদ্রায় ট্রাম্পের ছবি নিয়ে আইনি প্রশ্ন
বিশেষ ১ ডলারের মুদ্রাগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে জীবিত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি দেশের মুদ্রায় ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্মারক বা বিশেষ মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, ‘আমেরিকার গৌরবময় ঐতিহ্যের ২৫০ বছরকে সম্মান জানাতে’ এই মুদ্রা তৈরি করা হয়েছে। মুদ্রার ওপর ট্রাম্পের প্রতিকৃতির উপরে অর্ধবৃত্তাকারে লেখা রয়েছে ‘লিবার্টি’। নিচে রয়েছে ‘১৭৭৬ ~ ২০২৬’।
মুদ্রাটির অপর পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিল। সেখানে একটি ঈগলকে এক নখরে তির এবং অন্য নখরে জলপাইয়ের ডাল ধরে থাকতে দেখা যায়। ঈগলের ঠোঁটে থাকা ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’, যার অর্থ ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’।
সোনালি হলেও নেই সোনা
মুদ্রাগুলো দেখতে সোনালি হলেও এতে প্রকৃত কোনো সোনা ব্যবহার করা হয়নি। ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রায় ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা রয়েছে। বাকি অংশ তৈরি হয়েছে জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল দিয়ে।
২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ ডলার। আর ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম ১৫৪ দশমিক ৫০ ডলার।
মিন্ট জানিয়েছে, এসব রোল ও ব্যাগের মধ্যে এলোমেলোভাবে কিছু বিশেষ সংস্করণের মুদ্রা রাখা হয়েছে। বিশেষ মুদ্রাগুলোতে ‘জুলাই ৪’ লেখা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণের বার্ষিকী ৪ জুলাইকে স্মরণ করেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে। বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিন্টের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, পণ্যটি অর্ডার করা যাচ্ছে, তবে আপাতত মজুত নেই। অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরির কাজ চলছে।
২৫০ ডলারের নোটেও ট্রাম্পের ছবি?
এর আগে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, তার বিভাগ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতিসংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের একটি নোট চালুর পরিকল্পনা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি কাগুজে মুদ্রায় ছাপানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাম্পের কয়েকজন মিত্র আইনপ্রণেতা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার জন্য আইন প্রস্তাব করলেও সেটি এখনো অগ্রসর হয়নি।
সে সময় বেসেন্ট উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশের মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত অর্ধ ডলারের একটি মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।
১০০ বছর পর আবার জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি
ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে।
আইনটিতে মুদ্রার পেছনের অংশ বা ‘টেইল’-এ জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামনের অংশ বা ‘হেড’-এর ক্ষেত্রে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে সামনের অংশেই।
অন্যদিকে, ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে নোটে জীবিত কোনো ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিত ব্যাখ্যায় এই বিধান মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণসহ এ ধরনের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ দেখা গেছে। এর মধ্যে কেনেডি সেন্টার এবং ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। এসব পদক্ষেপের কয়েকটি মামলা-মোকদ্দমার সঙ্গেও জড়িয়েছে।
ইতিহাসে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে নিজের নাম ও ভাবমূর্তির উপস্থিতি জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এনএনবাংলা/
