যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার কাছে তিন গোলে হেরে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

দুই ম্যাচ, দুই হার। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বিপক্ষে লড়াইটা একসময় সমানে সমান মনে হলেও বিরতির ঠিক আগে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জেরার্ড জোন্সের দলকে।
উজবেকিস্তানের তাসখন্দের দস্তলিক স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সিরিয়া। ১৭ মিনিটে আব্দুল্লাহ আল নাজারের প্লেসিং শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী।
এর আট মিনিট পর, ২৩ মিনিটে আবারও কাছাকাছি জায়গা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে সিরিয়া। তবে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন রিয়াদ ফাহিম। ৩৮ মিনিটে তার কোনাকুনি শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন সিরিয়ার গোলরক্ষক ইসমাইল হাদি।
তবে বিরতির ঠিক আগে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৪ মিনিটে আব্দুল্লাহ আল নাজারের ব্যাকহিল থেকে পাওয়া বলে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বাংলাদেশের জালে বল পাঠান আলান মামোর।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিরিয়া। বাংলাদেশের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মারিওস আলহেরেক। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় বাংলাদেশের ২-০ গোলের পিছিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে সিরিয়ার গোলমুখে সেই চেষ্টা কার্যকর হয়নি। বরং একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রাজ চৌধুরীকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।
৭৩ মিনিটে আমের আম্মারের ফ্রি-কিক এবং ৮৫ মিনিটে আলান মামোরের শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন রাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের তৃতীয় গোল ঠেকাতে পারেননি তিনি।
৮৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক নেন আল নাজার। তার নিচু শট ধীরগতিতে গড়াতে গড়াতেই বাংলাদেশের জালে গিয়ে ঠেকে। তাতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিরিয়া এবং ম্যাচের ফলও কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
এই হারে দুই ম্যাচ শেষে পয়েন্টশূন্য বাংলাদেশ। ফলে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার আশা এখন বড় ধরনের শঙ্কার মুখে।
এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। রোববার ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা। তবে বৃহস্পতিবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ভারত ড্র করলেই মূল পর্বে খেলার বাংলাদেশের আশা শেষ হয়ে যাবে।
বাছাইপর্বের আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং সেরা সাত রানার্সআপসহ মোট ১৫টি দল মূল পর্বে জায়গা পাবে। আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ। আয়োজক দেশ হিসেবে চীন সরাসরি মূল পর্বে খেলবে।
এনএনবাংলা/
