নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর আরও ২ জনকে জীবিত উদ্ধার

হিমালয়ের সীমান্ত অঞ্চলে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পর নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে চীনের এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন নুয়াকোট এলাকায় ধসে পড়া একটি বাড়ির নিচ থেকে ৬৪ বছর বয়সি এক নেপালি নারীকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২২৫ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ থেকে চীনা ওই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নুয়াকোট শহরে ধসে পড়া একটি বাড়ি থেকে চান্দিকা শ্রেষ্ঠ নামের ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
এ নিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির সুড়ঙ্গ থেকে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। এর আগে শুক্রবার একই সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সেনাসদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারের পর চীনা শ্রমিকটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন সামরিক চিকিৎসকেরা। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। নেপালের সেনাবাহিনী প্রকাশিত ছবিতে চিকিৎসকদের ওই শ্রমিকের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিও একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দুই উদ্ধারকর্মীকে তাকে সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনতে দেখা যায়।
এদিকে নুয়াকোট শহরে ধসে পড়া বাড়ির নিচ থেকে চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করে জরুরি সেবাকর্মীরা। উদ্ধারের সময় তাকে ধূসর কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু নেওয়া হচ্ছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর বরফ, কাদা ও পাথরের ভয়াবহ ঢল নামে। এতে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালে এখনও ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নদীতীরবর্তী বিশাল সুড়ঙ্গে কাজ করা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকশ শ্রমিকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও প্রায় ৯০০ শ্রমিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনএনবাংলা/
