সাম্প্রতিক
Skip to content

গ‍্যাস সরবরাহ কমার পর বেড়েছে লোডশেডিং

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গ্যাস সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে আবার গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়ে গিয়েছে। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও তৈরি হয়েছে ঘাটতি। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে গিয়েছে।

শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। শিল্পের সংকট সামলাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল ও কয়লার ঘাটতি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।কোনো কোনো সময় লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াটও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকা, কোথাও কোথাও ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে প্রচণ্ড গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ বড় বিপাকে পড়েছেন। কারখানার মালিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও মহাসংকটে পড়েছেন। তাদের রোজগার অনেক কমে গেছে। ঢাকার বাইরে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে কিংবা তাপমাত্রা কমলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, পায়রা, আদানি ও মাতারবাড়ীর মতো বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে গ্যাসের সরবরাহও ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো কঠিন। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান দ্রুত কমানো না গেলে লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এনএনবাংলা/এফএস