নিট ফেব্রিক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের অর্থনীতি পোশাকশিল্পের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জুলাই ও আগস্ট মাসে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পকারখানাগুলো। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রপ্তানি আদেশ রক্ষা ও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে আছে কারখানা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় নতুন আমদানি নীতি অনুযায়ী নিট ফেব্রিক্স আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রফতানি আদেশ ঠিক রাখতে যেখানে অনেক কারখানাকে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্স আমদানি করতে হচ্ছে, সেখানে নতুন নীতির কারণে সেই আমদানিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রফতানিকারকরা। এমনকি নতুন নীতির কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার মনে করছে, নিট ফেব্রিক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের ফলে স্থানীয় টেক্সটাইল ও ডাইং শিল্পকে সুরক্ষা দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো যাবে। কিন্তু রফতানিকারকরা এই ধারণার সঙ্গে একমত নয়।
পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও অনেক ধরনের উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত ফেব্রিক উৎপাদন হয় না। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে এসব ফেব্রিক আমদানি বন্ধ হলে।
নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, “উচ্চমূল্যের নিটওয়্যার রফতানির জন্য এখনও আমদানিকৃত ফেব্রিকের ওপর নির্ভর করতে হয়। গ্যাস সংকট ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে আমদানি বন্ধ করা হলে রফতানি বৈচিত্র্যকরণ বাধাগ্রস্ত হবে।”
তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত ‘আমদানি নীতি ২০২৬-২০২৯’-এ নিট ফেব্রিক্স আমদানির সুযোগ বন্ধের বিধান স্থগিত ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিট তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সমিতি বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে জানানো হয়, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত ‘আমদানি নীতি ২০২৬-২০২৯’-এর ২৫ ধারায় শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির শর্তাবলির উপধারা-১২-তে ‘নিট ফেব্রিক্স আমদানি যোগ্য হবে না’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগে অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা করা হয়েছিল। সে সময় সংশ্লিষ্ট বিধানটি ভুলক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয় এবং সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত প্রকাশিত আমদানি নীতি উপধারা-১২ এ বিধানটি বহাল রাখা হয়েছে, যা হতাশাজনক।
সংগঠনটি আরও জানায়, রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্রেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি উভয় উৎস থেকেই কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নিটওয়্যার শিল্প ও ফেব্রিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা, নির্ধারিত মান, ডিজাইন এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বজায় রাখতে রপ্তানিকারকদের প্রায়শই বিদেশ থেকে ফেব্রিকস আমদানি করতে হয়। এরইমধ্যে আগে খোলা ঋণপত্রের ভিত্তিতে আমদানি করা ফেব্রিকসের চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে এবং অনেক রপ্তানিকারকের এলসি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এই অবস্থায় নতুন আমদানি নীতির কারণে বন্দরের কাঁচামাল খালাস কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো রপ্তানি অর্ডার সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিকেএমইএ সব শেষে দেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী নিট পোশাক শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি ধারা অব্যাহত রাখতে নীতিমালার ওই শর্তটি দ্রুত স্থগিত বা পুরোপুরি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে।
এনএনবাংলা/এফএস
