Skip to content

কোরবানির হাটে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে

এআই জেনারেটেড ছবি

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে পশুর হাট। সবাই চান নিজের সামর্থ্যের মধ্যে ভালো ও সুস্থ পশু কিনতে। তবে হাটে গিয়ে অনেক সময় ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হন। অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরুকে স্টেরয়েড বা হরমোনজাতীয় ওষুধ দিয়ে দ্রুত মোটাতাজা করে তোলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ওষুধ শুধু পশুর জন্যই ক্ষতিকর নয়, সেই মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই গরু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল করলে সহজেই বোঝা সম্ভব পশুটি প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা নাকি কৃত্রিমভাবে ফোলানো।

শরীরের গঠন দেখে বুঝুন

স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু বাইরে থেকে বেশ চকচকে, ভারী ও আকর্ষণীয় দেখায়। তবে এসব গরুর শরীরে মাংসের তুলনায় পানির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে শরীর অস্বাভাবিক ফোলা বা আলগা মনে হয়। বিশেষ করে পেছনের রানের অংশ বেশি স্ফীত দেখা যায়।

অনেক সময় গরুর পিঠ বা কুঁজও অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। চামড়া অতিরিক্ত টানটান ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে। যদিও অনেকে এটিকে সুস্থতার লক্ষণ ভাবেন, বাস্তবে হরমোনের প্রভাবে শরীরে পানি জমে এমন চকচকে ভাব তৈরি হয়।

আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করুন

গরু সুস্থ কি না তা বোঝার সহজ উপায় হলো শরীরে চাপ দিয়ে দেখা। পেছনের রান বা পিঠের মাংসে আঙুল দিয়ে চাপ দিন। যদি চাপ দেওয়ার পর গর্ত তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে অস্বাভাবিক পানি জমেছে।

সুস্থ গরুর মাংস সাধারণত দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে। স্টেরয়েডের প্রভাবে কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় শরীরে পানি জমে থাকে, যার কারণে এমন লক্ষণ দেখা যায়।

চালচলনে মিলবে ইঙ্গিত

সুস্থ গরু সাধারণত চঞ্চল প্রকৃতির হয়। হাটের ভিড়ের মধ্যে তারা কান নাড়ায়, লেজ দিয়ে মাছি তাড়ায় কিংবা আশপাশে নড়াচড়া করে। অপরিচিত কাউকে দেখলে ভয় পাওয়া বা গুঁতো দেওয়ার প্রবণতাও থাকে।

অন্যদিকে স্টেরয়েড খাওয়ানো গরু অনেকটা অলস ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শরীরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারে না। যদি কোনো বড় গরুকে দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন, তাহলে সেটিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

শ্বাস-প্রশ্বাস ও মুখের অবস্থা খেয়াল করুন

স্টেরয়েড ব্যবহার করা গরুর ফুসফুসে পানি জমার ঝুঁকি থাকে। ফলে অনেক সময় তারা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না এবং জোরে জোরে হাঁপাতে থাকে।

এছাড়া এসব গরুর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা ঝরতে দেখা যায়। সুস্থ গরু নিয়মিত জাবর কাটে, কিন্তু কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর ক্ষেত্রে জাবর কাটার পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়।

খাওয়ার অভ্যাসেও মিলবে পার্থক্য

প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সুস্থ গরু সবসময় কিছু না কিছু খেতে বা খড় চিবোতে পছন্দ করে। কিন্তু স্টেরয়েড খাওয়ানো গরুর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।

এছাড়া শরীরের হাড়ের গঠন দেখেও পার্থক্য বোঝা যায়। স্বাভাবিক গরুর শরীরে হাত দিলে পাঁজর বা হাড়ের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। কিন্তু স্টেরয়েড প্রয়োগ করা গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি ও চর্বি জমে হাড়ের গঠন অনেকটা ঢাকা পড়ে যায়। বিশেষ করে মেরুদণ্ডের অংশ সহজে বোঝা যায় না।

এনএনবাংলা/পিএইচ