সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

থ্রেডস অব সেলিব্রেশন-ঈদ উৎসবে টুয়েলভ

 

বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পের চিত্রপটে কিছু নাম আছে, যেগুলো কেবল একটি ব্র্যান্ড নয়, সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক জীবনযাপন, এক রুচি, এক আত্মপরিচয়ের আরেক নাম। সাম্প্রতিক সময়ে সেই নামগুলোর অগ্রভাগে অনিবার্যভাবে উচ্চারিত হয় টুয়েলভ ক্লদিংয়ের নাম।

শহরের ব্যস্ত মোড়ে, আলোকোজ্জ্বল শোরুমে কিংবা উৎসবের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রঙিন পর্দায় টুয়েলভ যেন আজকের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হৃদস্পন্দনের সঙ্গে যুক্ত এক অবিচ্ছেদ্য উপস্থিতির পরিচয়বাহক। এবারের ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে তাদের নতুন কালেকশন সেই উপস্থিতিকে আরও গভীর, আরও নান্দনিক মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

ঈদ মানেই তো ফিরে যাওয়া নিজের কাছে, প্রিয়জনের কাছে, শৈশবের কাছে। দীর্ঘ এক মাসের সংযমের পর যখন রমজানের বিদায়ে আকাশে উঁকি দেয় পবিত্র শাওয়ালের চাঁদ, তখন বাঙালির প্রতিটি ঘরে ঘরে ওঠে সাজ সাজ রব। নতুন পোশাকের গন্ধে ভরে ওঠে আলমারি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এক নীরব উল্লাস। টুয়েলভের এবারের ঈদ কালেকশন সেই আবিষ্কারের গল্পই বলে। যার নাম দেয়া হয়েছে থ্রেডস অব সেলিব্রেশন। আত্মবিশ্বাসী, স্বতন্ত্র এবং আধুনিক এক বাঙালির ফ্যাশন রুচিতে যা রচনা করে ভিন্ন এক গল্প।

এই কালেকশনের মূল ভাবনা ঘুরে ফিরে এসেছে ঐতিহ্য ও সমসাময়িকতার মেলবন্ধনকে কেন্দ্র করে। পুরনো দিনের কারুকাজ, নকশা আর রঙের আবহকে আধুনিক কাট, সিলুয়েট ও টেক্সচারের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যেন প্রতিটি পোশাক নিজেই হয়ে উঠেছে একেকটি চলমান ক্যানভাস। এখানে উৎসব মানে কেবল চাকচিক্য নয়, আছে এক গভীর শিকড়ের টান, আছে বাঙালিয়ানার স্বতন্ত্র সুর।

নারীদের জন্য এবারের আয়োজন বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। সিল্ক, মসলিন, লন, কটন কিংবা ভিসকোজ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে ফুটে উঠেছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। কোথাও মৃদু প্যাস্টেল, কোথাও উজ্জ্বল কোরাল বা এমেরাল্ড রঙের ব্যবহারে আছে ঋতুর উচ্ছ্বাস, আবার আছে সংযমের সৌন্দর্য। লম্বা কুর্তা, ফ্লোই গাউন, সোজা কাটের থ্রি-পিস কিংবা এমব্রয়ডারির মৃদু ছোঁয়া, সব মিলিয়ে এমন এক বৈচিত্র্য, যেখানে প্রতিটি নারী নিজের মনের সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি রূপ খুঁজে নিতে পারেন।

এবারের কালেকশনে বিশেষভাবে লক্ষণীয় সূচিকর্মের ব্যবহার। সূক্ষ্ম থ্রেডওয়ার্ক, জরি, সিকুইন কিংবা টোন-অন-টোন এমব্রয়ডারি, সবই করা হয়েছে পরিমিতির বোধ নিয়ে। অতিরিক্ত অলঙ্করণ নয় বরং পরিশীলিত আভিজাত্যই এখানে মুখ্য। পোশাক যেন পরিধানকারীকে আড়াল না করে, বরং তার ব্যক্তিত্বকে আলোকিত করে তোলে এই দর্শন যেন স্পষ্ট প্রতিটি নকশায়।

পুরুষদের ঈদ আয়োজনেও টুয়েলভ রেখেছে বিশেষ অনুযোগ। পাঞ্জাবি বরাবরই ঈদের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। কিন্তু সেই পাঞ্জাবিকে কীভাবে প্রতিবার নতুন করে উপস্থাপন করা যায়, সেটিই যেন টুয়েলভের ডিজাইনারদের সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ। এবারের কালেকশনে দেখা যায় ক্লাসিক সাদা, অফ-হোয়াইট কিংবা প্যাস্টেল শেডের পাশাপাশি গাঢ় নীল, মেরুন ও অলিভ রঙয়ের ব্যবহার। সোজা কাট, মিনিমাল কলার ডিটেইলস, মৃদু এমব্রয়ডারি কিংবা টেক্সচারড ফ্যাব্রিক, সব মিলিয়ে এমন এক আভিজাত্য, যা একই সঙ্গে ঐতিহ্যনির্ভর ও আধুনিক।

কিশোর ও তরুণদের জন্যও রয়েছে আলাদা ভাবনা। ট্রেন্ডি কাট, লেয়ারিংয়ের সুযোগ, আরামদায়ক ফ্যাব্রিক তৈরী করেছে এমন পোশাকী আমেজ, যা ঈদের নামাজ থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা, কিংবা রাতে দাওয়াত, সব জায়গাতেই মানানসই। এই প্রজন্ম ফ্যাশনে চায় নিজস্বতা, চায় স্বাচ্ছন্দ্য। টুয়েলভ সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন ডিজাইন উপস্থাপন করেছে, যা আত্মপ্রকাশের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।
শিশুদের পোশাকে আছে আলাদা মাধুর্য। ছোট্ট পাঞ্জাবি, ফ্রক বা সেট, সবকিছুতেই রঙের উচ্ছ্বাস, নরম কাপড়ের ব্যবহার এবং আরামের প্রতি যত্ন। ঈদের সকালে যখন পরিবারের সবাই একসঙ্গে ছবি তোলে, তখন এই ছোটদের পোশাকই যেন ছবির প্রাণ হয়ে ওঠে।

এনএনবাংলা/