Skip to content

Upcoming
France
0-0
England
Source: ESPN

কোন ভিটামিনের অভাবে খাওয়ার পরও বারবার ক্ষুধা লাগে

ছবি: লাইফ ক্লিক

খাবার খাওয়ার অল্প সময় পরই আবার ক্ষুধা লাগা বা সারাক্ষণ কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছা করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অনেক ক্ষেত্রে ‘হিডেন হাঙ্গার’ বা ‘লুকানো ক্ষুধা’-র সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি পেলেও প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির অভাবে বারবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে শুধু ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলেই হয় না। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সমানভাবে প্রয়োজন। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভিটামিনের ভূমিকা

ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে শরীরের বিভিন্ন হরমোন কাজ করে। এর মধ্যে লেপটিন মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীর পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি লেপটিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে তৃপ্তির অনুভূতি কমে গিয়ে বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে।

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিতে কী হতে পারে

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি সরাসরি ক্ষুধা বাড়ায়—এমন শক্ত প্রমাণ না থাকলেও, এর অভাবে অনেকের মিষ্টি, চকলেট বা উচ্চ-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ক্লান্তি, পেশিতে টান, অবসাদ এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বি-ভিটামিনের অভাবেও বাড়তে পারে ক্ষুধা

ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স শরীরে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬, বি৯ (ফোলেট) এবং বি১২-এর ঘাটতি হলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় এই শক্তির ঘাটতিকে শরীর অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হিসেবে প্রকাশ করে, ফলে বারবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।

আয়রনের ঘাটতিও হতে পারে কারণ

শরীরে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে, যার ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় শরীর দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য বেশি খাবারের চাহিদা অনুভব করতে পারে।

অন্য রোগের লক্ষণও হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা শুধু পুষ্টির ঘাটতির কারণেই হয় না। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় থাইরয়েড (হাইপারথাইরয়েডিজম) বা অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে। তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভিটামিন ডি-এর জন্য প্রতিদিন কিছু সময় সকালের রোদে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ।

খাওয়ার পরও যদি নিয়মিত ক্ষুধা লাগে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে কারণ শনাক্ত করা উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরে লুকিয়ে থাকা পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এনএনবাংলা/