পদ্মা সেতুতে ৩৬ ঘণ্টায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা টোল আদায়

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে পদ্মা সেতুতে। গত ৩৬ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৬৫ হাজার ৩২৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে সাত কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫০ টাকা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেতুর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে এসব যানবাহন পারাপার হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, ঈদের ছুটির প্রথম দিন ২৫ মে রাত ১২টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন। এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
এছাড়া ২৬ মে রাত ১২টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে আরও ২১ হাজার ৩২৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪০ টাকা। সব মিলিয়ে গত ৩৬ ঘণ্টায় টোল আদায় দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকায়।
মঙ্গলবার মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল দিয়ে সেতু পারাপার করছে। মোটরসাইকেলের জন্য অস্থায়ী তিনটি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় কার্যক্রম চলছে।
পদ্মা সেতুর পরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন শেখ জানান, যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে বিশেষ ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি বাস দাঁড়াতে পারছে। ফলে টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।
এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে-এ পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির কারণে পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার পদ্মা সেতু পার হতে যাত্রীদের তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ কিছুটা বেশি থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান পারাপার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এনএনবাংলা/
