




বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানকে আরও দীর্ঘ করেছে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিলেন লিওনেল মেসি। তাই পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর ছিল রোনালদোর দিকে। কিন্তু ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি।
বুধবার (১৭ জুন) হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইয়োয়ানে উইসার হেডে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোল আর পায়নি পর্তুগিজরা।
রোনালদোর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও ছিল নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধে তিনি কোনো শট নিতে পারেননি, কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করেননি এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে কোনো দ্বৈরথেও জয় পাননি। অথচ ওই সময় ম্যাচে বলের দখল ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ পর্তুগালের।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে একটি মুহূর্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওর কাটব্যাক থেকে বলটি ব্রুনো ফার্নান্দেজের কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সামনে এসে নিজেই শট নেন রোনালদো। কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক মত দেন, ব্রুনো শট নেওয়ার সুযোগ পেলে পর্তুগাল হয়তো কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যেত।
এই ম্যাচে গোল করতে না পারায় বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা আরও দীর্ঘ হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে তিনি জালের দেখা পাননি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি তার দীর্ঘতম গোলশূন্য অধ্যায়। অন্যদিকে ওপেন প্লে থেকে বড় টুর্নামেন্টে তার সর্বশেষ গোল এসেছিল ইউরো ২০২০-এ জার্মানির বিপক্ষে।
সমালোচনার মধ্যেও রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সাবেক সতীর্থ ওয়েইন রুনি। বিবিসিতে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, রোনালদোকে অনেক সময় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও সেটি অলসতার বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে এনে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করাই ছিল তার কৌশল।
তবে ম্যাচ শেষে রুনি স্বীকার করেন, ডিআর কঙ্গো তাদের প্রাপ্য ফলই পেয়েছে। তার মতে, আফ্রিকার দলটি পুরো ম্যাচজুড়ে পর্তুগালের তুলনায় বেশি ক্ষুধার্ত, সংগঠিত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।
বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে টুর্নামেন্টে আসা পর্তুগালের জন্য ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই ড্র শুধু দুই পয়েন্ট হারানোর হতাশাই নয়, বরং রোনালদোর বর্তমান ভূমিকা এবং দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ
Tags: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপরোনালদো
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন