সাম্প্রতিক
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাতেই উপকূল পাড়ি দিতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গার্মেন্টস মালিকদের বৈঠক মিরপুরে সড়কে নামার চেষ্টা শ্রমিকদের, পুলিশের ধাওয়া–কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০৫ ট্রাম্পের বাসভবনের কাছে ‘ক্ষেপণাস্ত্রের মতো’ আছড়ে পড়ল উড়োজাহাজ, নিহত সব আরোহী
Skip to content

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

সিনেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৭ অঙ্গরাজ্যের সব কটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। দেশের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির দুর্গ বলে পরিচিত টেক্সাস এবং কানসাস অঙ্গরাজ্যেও এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঐতিহাসিক দিক থেকে এসব অঞ্চলের আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জয় পাওয়া বেশ বিরল ঘটনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক খরা কাটিয়ে এই রাজ্যগুলোতে এবার নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ১৯৮৮ সালের পর থেকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেননি। একই ভাবে কানসাস অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অনেক দীর্ঘস্থায়ী, যেখানে ১৯৩২ সালের পর থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট দলের নেতা সিনেট আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হননি। ফলে এবারের জরিপ ফলাফলকে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় ধরনের চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মনোভাবের এই পরিবর্তন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যদি জরিপের এই ধারা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য এটি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হলেও চূড়ান্ত ফল পেতে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

১০০ সদস্যের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমানে নিজেদের দখলে থাকা সব আসন ধরে রাখতে হবে এবং রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে।

এই লড়াই কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ডেমোক্র্যাটদের যেসব আসনে জয় পেতে হবে, তার অধিকাংশই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

তবে নতুন জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে রিপাবলিকান সিনেটর রয়েছেন এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। আর ষষ্ঠ অঙ্গরাজ্যটিতে দুই দলের প্রার্থীর অবস্থান প্রায় সমান। অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে কানসাস, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। আলাস্কায় ব্যবধান খুবই সামান্য। অন্যদিকে আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ এবং অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে ভোটের মধ্যে হতাশা রিপাবলিকানদের পিছিয়ে দিচ্ছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাতটি অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এই হার বেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মাত্র দুই বছর আগে এসব অঙ্গরাজ্যের পাঁচটিতেই ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

অন্যদিকে অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় দলটির জনসমর্থনে এই অগ্রগতি এসেছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

যদি চূড়ান্ত ফলাফলে জরিপের আভাস সঠিক হয়, তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

এনএনবাংলা/এনজেড