সাম্প্রতিক
Skip to content

ইসরায়েলে ভোটের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সরকার গঠনের করবে কারা?

ইলাস্ট্রেশন: মিডল ইস্ট আই

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আবারও নির্বাচনের পথে হাঁটতে হতে পারে দেশটিকে।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলোর ব্লক পেয়েছে ১৯টি আসন।

এ অবস্থায় সরকার গঠনের জন্য সামনে রয়েছে চারটি সম্ভাব্য পথ। তবে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজনের কারণে কোনো সমাধানই সহজ নয়।

বিরোধী জোটের সরকার গঠন
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী সরকার গঠন। তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা ডানপন্থি দলগুলোর আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটে অনীহা।

বিরোধী শিবিরের নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে রাজি নন। ২০২১ সালে রাআমসহ আটটি দলের জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হলেও এক বছরের মাথায় সেই সরকার ভেঙে যায়।

তবে সরকার গঠন সম্ভব না হলেও বিরোধী দলগুলো সংসদে একসঙ্গে কাজ করে স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনতে পারে। এতে নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতাও সীমিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

জাতীয় ঐক্যের সরকার
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, দুই জোটের কিছু দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ ও বর্তমান জোটের কয়েকটি শরিক দলের পাশাপাশি বিরোধী জোটের অন্তত একটি দলকে যুক্ত হতে হবে।

এমন সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দলকে বাদ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ধর্মীয় দলগুলোকে ছাড় দিতে তিনি রাজি নন।

অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পথও বেশ কঠিন।

আট সংসদ সদস্যকে দলে টানার চেষ্টা
তৃতীয় সম্ভাবনা হলো, বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের দলত্যাগে উৎসাহিত করে নিজের পক্ষে আনা। নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠনের জন্য অন্তত আটজন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

তবে আইজেনকোট, বেনেট, লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান—বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ চার নেতা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে এ পথে সফল হওয়াও কঠিন।

শেষ পর্যন্ত আবারও নির্বাচন
সরকার গঠনের অন্য সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সংসদে আসন পাওয়া দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।

মনোনীত নেতা সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে তা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তিনি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় একজন নেতাকে একইভাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এরপরও সমাধান না এলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অনুরোধে তৃতীয় একজন প্রার্থী ১৪ দিনের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন।

সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এই প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহু কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন। প্রথমে গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সুযোগ নেতানিয়াহুর কাছে যেতে পারে। তিনিও ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।

তবে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আগামী মার্চ কিংবা মে মাসের আগে নতুন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে আট বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচনের মুখোমুখি হবে ইসরায়েল।

(প্রতিবেদনটি সিএনএন থেকে অনূদিত)

এনএনবাংলা/