সাম্প্রতিক
Skip to content

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৬৪

ছবি: এপি

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে উর্দার কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক সরকারের সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদ সংস্থা এফে এ তথ্য জানিয়েছে।

কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আইরিওর একটি ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্য দ্রুতগতির ট্রেনটিতে যাত্রী ছিলেন ৩৯৭ জন। তবে থেমে থাকা আইরিওর ট্রেনটির পেছনে অন্য ট্রেনটি ধাক্কা দিয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি কর্মকর্তারা।

স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা গত জানুয়ারিতে আদামুজে ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৬ জন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী। স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল মুন্ডোকে ৪৬ বছর বয়সী সেবাস্তিয়ান হেরেরো জানান, তিনি সেভিয়া থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। দ্বিতীয় ট্রেনের ধাক্কায় তাদের ট্রেনটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে।

হেরেরো বলেন, ট্রেনটি থামার কিছুক্ষণ পরই তিনি ভয়াবহ একটি ধাক্কা অনুভব করেন। এতে তিনি সামনের আসনের ওপর ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর অনেক যাত্রীর নাক ও হাত ভেঙে যায়। এরই মধ্যে ট্রেনের ভেতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

তিনি আরও জানান, সাধারণ পোশাকে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, এল পাইসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৬০ বছর বয়সী এক যাত্রী ইনিয়াকি জানান, প্রথমে তিনি ট্রেনটি থেমে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর জোরালো ধাক্কায় তিনি মেঝেতে ছিটকে পড়েন। ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে তিনি আহত ও নিহত ব্যক্তিদের দেখতে পান।

এল এস্পানিওলকে ফার্নান্দো সেকো বলেন, সংঘর্ষের ধাক্কায় ট্রেনের কামরার ভেতরে যাত্রীদের স্যুটকেস ছিটকে পড়তে থাকে। তবে ট্রেন থেকে বের হওয়ার পর তিনি আরও ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে অনেক আহত মানুষ, চারদিকে রক্ত এবং বহু মরদেহ পড়ে ছিল।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: বিবিসি

এনএনবাংলা/