দু’দিনে ১৫২ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, তদবিরে ছাড়া হবে না কাউকে: ডিএমপি কমিশনার
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, গত দু’দিনে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযানে তালিকাভুক্ত ৫৮ জন এবং তালিকার বাইরে থাকা আরও ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং নতুন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। রাজধানীতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির প্রমাণ হিসেবে খাতা, লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য, ভিডিও ক্লিপসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে কেউ তদবির করলে তাকেও ওই চক্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের তদবির কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না এবং অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বড় মাদক চালান জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের কথাও উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, এসব অপরাধের পেছনে থাকা গডফাদারদের ধরতেও কাজ চলছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই মূল বিষয়। যত প্রভাবশালীই হোক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।
ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছু ছিনতাইকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সক্রিয় উপস্থিতি নেই; তবে কিছু ব্যক্তি তাদের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশলের মাধ্যমে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভাঙার কাজ চলছে বলে জানান তিনি। ব্লক রেইডের মাধ্যমে চিহ্নিত এলাকায় অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন এবং মোবাইল কোর্টও চালু রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
হটস্পট চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাজার ও জনবহুল এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় রায়েরবাজার থানার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিযানের তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন ফুটপাত নির্ধারণ করে দেওয়ায় চাঁদাবাজির সুযোগও আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ
