সাম্প্রতিক
একনেকে ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা রামপালের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ: বাড়ছে লোডশেডিং, এখনো পৌঁছায়নি ভারতীয় প্রকৌশলী ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাচ্ছে ট্রাম্প আনিসুলের ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, ৭৩৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট-গাড়িসহ সম্পদ জব্দ, ১৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার ডিসি প্রত্যাহার ১৮ দিন পর ব্যাগ-মোবাইলসহ ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি করল ডিবি একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে নতুন রেকর্ড
Skip to content

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন

আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাভাষীদের সীমান্তে পুশইন করছে বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী, বিশেষ করে মুসলিম নাগরিকদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছে। ফলে অনেক পরিবার দুই দেশের সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্টে’ আটকা পড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় বিজিবি ২১টি পুশব্যাক বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসএফ রাতের অন্ধকারে আটক ব্যক্তিদের কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধার মুখে অনেকেই আবার ভারতে ফিরতেও পারেননি। এতে তারা দীর্ঘ সময় সীমান্তবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ মানবেতর অবস্থায় আটকে থাকেন।

পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশুসহ কিছু পরিবার ৪৮ থেকে ৭৫ ঘণ্টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া জোরদারের পরামর্শ দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা বেড়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় অনেকের নাম বাদ পড়ায় তাদের আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছে এবং তাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি এবং এতে নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে কিছু মানুষ আটক হয়েছেন এবং পরে তাদের সীমান্তে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় মানবিক মর্যাদা ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তিকে দুই দেশের মাঝামাঝি অবস্থায় মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে রাখা যাবে না।

এনএনবাংলা/