সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

সংকট সমাধানে বিকল্প উৎস হতে জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ

 

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ‘বাজেট সাপোর্ট’ গ্রহণ ও অন্যান্য সাশ্রয়ী পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

এ তথ্য সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যেই একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে।

সংসদে তিনি অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার জন্য গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন:

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের ঝুঁকি কমাতে ‘কৃষি বিমা’ প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।

ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা: ব্যাংক খাতের অনিয়ম দূর করা, ঋণ আদায় জোরদার করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও ভাতা: নিম্ন আয়ের মানুষদের কষ্ট লাঘবে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে ‘জিটুপি’ পদ্ধতিতে ভাতা প্রদান করা হবে, যা ধাপে ধাপে সকল দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

রাজস্ব ও বৈদেশিক খাত: কর ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয় বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ ও স্বচ্ছতা: বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার জটিলতা কমানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো একটি সুশৃঙ্খল, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

এনএনবাংলা/পিএইচ