বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষক ভালো থাকলে পুরো দেশ ভালো থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষককে সচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষক যদি বেঁচে থাকে এবং ভালো থাকে, তাহলে দেশও ভালো থাকবে।”
তিনি জানান, কৃষকদের উন্নয়নে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে সরাসরি ১০টি সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে উদ্বোধনী দিনে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে।
সরকারপ্রধান আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ৫ জন কৃষক ও কৃষাণির হাতে কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, “গাছ বড় হলে ফল কিন্তু আমার জন্য পাঠাবেন।”
তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খাল খনন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সবাই মিলে দেশ গড়তে চাই। রাজনীতি করি বা না করি, প্রত্যেকেই চাই আমাদের দেশ উন্নত, নিরাপদ ও সুন্দর হোক।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এই যে পহেলা বৈশাখ আজকের এই অনুষ্ঠানটি, পহেলা বৈশাখ কীভাবে আসল, নিশ্চয়ই অনেকেরই আপনাদের ধারণা আছে। যদিও বর্তমানে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। কিন্তু পহেলা বৈশাখটি আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত।”
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ