রংপুরে হত্যা মামলায় পলাতক ছাত্রদল নেতা নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আসামি গোপাল ব্যানার্জি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বদরগঞ্জ পৌর কমিটির সদস্য সচিব।বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর সিপিএসসি রংপুর ও র্যাব-৫ এর সিপিসি-৩ জয়পুরহাটের যৌথ অভিযানে গতকাল রাতে নওগাঁ সদর উপজেলার নিশ্চিন্ত বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী দিলীপের বসতবাড়ি থেকে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়।আসামি গোপাল ব্যানার্জি বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের নন্দ ব্যানার্জির ছেলে। স্থানীয় ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে এলাকার তার পরিচিতি রয়েছে।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি এবং তার সহযোগীরা দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির। গত ৫ মে উপজেলার বালুয়াভাটা এলাকার আম্বিয়ার মোড়ে আরিফুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামি গোপাল ব্যানার্জি ও তার সহযোগীরা মিলে চাপাতি, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারপিট করার পাশাপাশি কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আরিফুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর আসামি গোপাল ব্যানার্জি আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে পলাতক আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে আসামিকে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোপাল ব্যানার্জি তিনটি হত্যা মামলার আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ মে রংপুর আদালতে একটি মামলায় ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাং ও পাঠানপাড়া এলাকার মমিনুল গ্রুপের সদস্যরা হাজিরা দিতে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ফিরোজ শাহ ওরফে ‘মার্ডার ফিরোজ’ এর নেতৃত্বে মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হন।
আদালত থেকে ফেরার পর ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বদরগঞ্জে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ নিতে মমিনুলের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ গ্যাংকে খুঁজতে থাকে। একই সময় ফিরোজ গ্যাংয়ের লোকেরাও মমিনুল পক্ষকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে আম্বিয়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার বাড়ি কোথায়। তিনি পাঠানপাড়া গ্রামের কথা বলতেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) বদরগঞ্জ পৌর শহরের নয় নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। প্রয়োজনের তাগিদে কখনো কখনো রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন। ঘটনার দিন রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের প্রধান ফিরোজ শাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া গ্যাংয়ের সদস্য পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি, বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাতনামাকেও আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আলোচিত ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের সদস্য দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১১ মে) রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ নেওয়ার জোহা ও সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত দুজন হলেন- পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি এবং বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মক্ডা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
