এবারের বর্ষায় থাকবে অসহ্য গরম, আসছে ৩ মাসে একাধিক হিটওয়েভ

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এখনো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে না। স্বস্তির পরিবর্তে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বর্তমানে দেশের ৪১টি জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী তিন মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং একাধিক হিটওয়েভের মুখোমুখি হতে পারে দেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের স্বাভাবিক আবহাওয়া চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। একসময় জুন মাস মানেই ছিল নিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা হ্রাসের সময়। কিন্তু এবার বর্ষার শুরুতেই দেখা দিয়েছে বৃষ্টির ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী গরম, যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকাসহ দেশের বড় একটি অংশ বর্তমানে তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। ফলে এই সময়ে কয়েক দফা তাপপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে হিটওয়েভ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেশি এবং মে মাসে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে জুন, জুলাই ও আগস্টে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বৃষ্টির বিরতি দীর্ঘ হলে নতুন করে তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঋতুচক্রের প্রচলিত ধারা বদলে যাচ্ছে। আগে মার্চ ও এপ্রিল ছিল বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়, আর জুন থেকে আগস্ট ছিল ভারী বৃষ্টিপাতের মৌসুম। এখন সেই চিত্র আর আগের মতো নেই। চলতি বছর মার্চ-এপ্রিলে উল্লেখযোগ্য তাপপ্রবাহ না থাকলেও বর্ষার শুরুতেই তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে।
জলবায়ু বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পাশাপাশি শহরাঞ্চলে কংক্রিটের বিস্তার এবং সবুজায়নের অভাব গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে নগরবাসী তুলনামূলক বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং তাপজনিত নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ
