নাটোরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
নাটোর সদর উপজেলার মদনহাট গ্রামে শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া পাঁচ বছরের এক শিশু কে ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুচকা ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম (৪৫) এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন হয়েছে।
বৃহস্প্রতিবার দুপুরে দিকে শহরের কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন হয়।
এ মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একটি ৫ বছরের অবুঝ শিশুর ওপর এমন পাশবিকতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজ থেকে এই ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন অপরাধীদের নির্মূল করতে হবে।”
বক্তারা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাটোর সদর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার মদনহাট পূর্ব পাড়া এলাকায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় মদনহাট প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রী।
বিকেলে নানির সাথে মাঠে ঘাস কাটতে গেলে নির্জন স্থানে একা পেয়ে স্থানীয় ফুচকা বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম (মো.আব্বাস আলীর ছেলে) শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনার পরেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শরিফুলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া জোরালোভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।”
