সাম্প্রতিক
কলকাতায় বাংলাদেশি রোগী কমতেই নতুন উদ্যোগ, লিয়াজোঁ টিম পাঠাচ্ছে হাসপাতালগুলো বিদেশ ভ্রমণে বছরে খরচ করা যাবে ১৮ হাজার ডলার বোয়িং-এয়ারবাসের দ্বৈরথে বাংলাদেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চায় ইইউ দিল্লিতে ৬ তলা মেসবাড়ি ধসে নিহত ১, অর্ধশত শিক্ষার্থীর আটকা পড়ার শঙ্কা ‘কল্পনার ভেতর এখনও দেখা হয়, কথা হয়’—সালমান শাহকে নিয়ে মৌসুমী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে ফের বিশৃঙ্খলার শঙ্কা, অনুমোদন পায়নি সাদপন্থিরা আজও ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বললেন —‘ভয়াবহ রূপ নিতে পারে’ দেশে মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোন জব্দ, ‘ম্যাচ পাতানোর শঙ্কা’
Skip to content

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে ডিউটি; সকালে পরীক্ষার হলে ইকন

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন, আর পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে উপস্থিত—জীবনের কঠিন বাস্তবতার এমনই এক উদাহরণ তৈরি করেছেন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়া।

বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েও সংসারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না তার। তাই মঙ্গলবার রাতে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে বুধবার সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫)। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন জোহরের নামাজের পর বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

বাবার দাফন শেষে মঙ্গলবার রাতেই বাগেরহাট শহরে ফিরে নিজের কর্মস্থলে যোগ দেন ইকন। সারারাত রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর বুধবার সকালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

ইকন বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ মেটাতে তিনি রাতের শিফটে এটিএম বুথে পার্টটাইম চাকরি করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইকনের বড় ভাই ইমন আগে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতেন। তবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের দায়িত্ব এসে পড়ে ইকনের কাঁধে।

বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও সংসারের দায়িত্ব পালন এবং নিজের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার কঠিন লড়াই অব্যাহত রেখেছেন ইকন।

এনএনবাংলা/