সাম্প্রতিক
কলকাতায় বাংলাদেশি রোগী কমতেই নতুন উদ্যোগ, লিয়াজোঁ টিম পাঠাচ্ছে হাসপাতালগুলো বিদেশ ভ্রমণে বছরে খরচ করা যাবে ১৮ হাজার ডলার রাষ্ট্রপতির আদেশে মওকুফ এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বোয়িং-এয়ারবাসের দ্বৈরথে বাংলাদেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চায় ইইউ দিল্লিতে ৬ তলা মেসবাড়ি ধসে নিহত ১, অর্ধশত শিক্ষার্থীর আটকা পড়ার শঙ্কা ‘কল্পনার ভেতর এখনও দেখা হয়, কথা হয়’—সালমান শাহকে নিয়ে মৌসুমী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে ফের বিশৃঙ্খলার শঙ্কা, অনুমোদন পায়নি সাদপন্থিরা আজও ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বললেন —‘ভয়াবহ রূপ নিতে পারে’ দেশে মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা
Skip to content

আজও ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বললেন —‘ভয়াবহ রূপ নিতে পারে’

ফাইল ছবি: এএফপি

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫৮ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চার মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৭ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনেই মারা গেছেন ২০ জন।

গত এক দিনে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১৯৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১৪৮ জন। এ ছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৬ জন।

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কম নয়। বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রামে ১৬৯, খুলনায় ৩৩৪, ময়মনসিংহে ৮৪, রংপুরে ৯৬, রাজশাহীতে ১১২ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এ সময়ের মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায়। ওই বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই বছর এ রোগে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

ড. এ এম এ মুহিত বলেন, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এনএনবাংলা/